সিলেটে বন্যা: লাশ মাটি দেওয়ার জায়গা নেই!

সিলেটে বন্যা দেশের আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। উজান থেকে আসা ঢলে বিভাগের ৮০ শতাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। এরই মধ্যে নতুন এক সমস্যায় পড়েছে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সেখানকার মানুষজন।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি সুনামগঞ্জ জেলার গোবিন্দগঞ্জ থেকে নৌকা রিজার্ভ করে একটি লাশ নিয়ে নগরীর ক্বীনব্রীজ ঘাটে এসেছেন। তাদের পরবর্তী গন্তব্য মানিক পীরের টিলা।জানা গেছে, সিলেটের বর্তমানে ৮০ ভাগ জায়গা পানির নিচে থাকায় বহু কবরস্থানও পানির নিয়ে তলিয়ে গেছে।

এ মুহূর্তে সুনামগঞ্জ বা জেলার পানিডে ডুবে যাওয়া এলাকার কোনো মানুষ মৃত্যুবরণ করলে তাদের দাফন দেওয়ার মতো উঁচু জমিরও সন্ধান মিলছে না। ফলে মৃত ব্যক্তির দাফনের জন্য সিলেট নগরীর মানিক পীরের টিলার (মাজার) বিকল্প নাই। তবে এখানে কবর দিতে হলে নির্ধারিত ফি দিয়ে কবর দিতে হয়।

টাকা দিয়েই কবর খনন করাতে হয় মৃতের স্বজনদের। ফলে, বর্তমানে বন্যা কবলিত প্রত্যন্ত এলাকার কোন গরীব মানুষ মারা গেলে তার দাফন নিয়েও পরিবারের দূর্ভোগের শেষ নেই।কয়েকজন ব্যক্তিকে দেখা গেছে, চড়া দামে নৌকা রিজার্ভ করে মৃতদেহ দাফনের জন্য কোনো এক শুকনা বা উঁচু জমির সন্ধান করছেন। কিন্তু যারা স্বচ্ছল নন, তাদেরকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

মানবিক এই বিপর্যয়ে কেউ মারা গেলে সরকারি নৌকা করে একটি উঁচু স্থানে লাশ দাফন করার ব্যবস্থার দাবি সিলেট-সুনামগঞ্জের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজের। পাশাপাশি যতদিন বন্যা থাকবে সিলেট নগরীর মানিকপীরের গোরস্থানে বিনামূল্যে লাশ দাফনের দাবি করেন তারা।

উল্লেখ্য, স্মরণকালের ১৯৮৮ কিংবা ২০০৪ সালের বন্যাকে ছাড়িয়ে গেছে এবারের ভয়াবহতা। বসত ঘরের ভেতর পানি বিছানা-বালিশ পানির নিচে। একটা বাড়িও আর অবশিষ্ট নেই যেখানে গিয়ে উঠবে মানুষ। সুনামগঞ্জের ৯০ শতাংশ এলাকা ডুবে গেছে। কিছু উঁচু স্থান, পাহাড়ি এলাকা এবং ভবন ছাড়া সবখানে এখন পানি। বন্যার এই পানি আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

Leave a Reply

Your email address will not be published.