সেবা করতে করতে মায়ের কোলেই চিরনিদ্রায় যুবলীগ কর্মী!

মাকে ছেড়ে এক মুহূর্তের জন্যেও হাসপাতাল থেকে আসেননি সোহাগ। মায়ের সেবা-শুশ্রূষা করার জন্য সার্বক্ষণিক ছিল মায়ের সঙ্গে। হাসপাতালে মায়ের বুকে মাথা রেখেই বুধবার ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে এ পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন যুবলীগ কর্মী

সোহাগ।তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার পৌর শহরের কলাবাগান এলাকার মৃত নওশের আলী ড্রাইভারের একমাত্র পুত্র।হাসপাতালে তার পাশে বেডে থাকা রোকসানা আক্তার জানান, সোহাগ মাকে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়েছেন। মায়ের কাপড়-চোপড় থেকে ধরে সব কাজ করেছে এই ছেলেটি। মাকে সেতো মেয়ের মতো আগলে রেখেছিল। ইস্, ও কী! ভদ্র ছেলে। কথাগুলো

বলতে গিয়ে তিনিও হাউমাউ করে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।মাকে চিকিৎসা করাতে গিয়ে সোহাগের মৃত্যুর বিষয়টি হাজারো নেটিজেন তাদের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। মাকে ভালোবাসার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশংসায় পঞ্চমুখ নেটিজেনরা। তাদেরই একজন আতিক। তিনি বলেন, ‘সোহাগ ভাই মায়ের বুকেই ঘুমিয়ে থাকবেন-এটাই তার বেহেশত।’সোহাগের লাশ যখন বাড়িতে আসে

তখন হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তারের কোলে থাকা দুই বছরের কন্যা শারদা মনি, বারবার তার মাকে বলতে থাকে; ‘মা, মা, এইতো বাবা আসছে’, কোমলমতি শিশুর এ আবেগঘন অবুঝ বক্তব্যে কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।সোহাগের মা রোকেয়া বেগমের কোমরে ব্যথা ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার থাকায় গত বৃহস্পতিবার ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। সেই থেকে মায়ের সঙ্গেই ছিল সোহাগ। শুধু মায়ের নয়; গৌরীপুর থেকে হাসপাতালে যাওয়া প্রত্যেকটি রোগীর প্রতিদিন খোঁজখবর ও সহযোগিতাও করে আসছিল। স্বার্থহীনভাবে দলের জন্য নিবেদিত এক

যুবলীগ কর্মী ছিল।শোকে ভারাক্রান্ত উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জল হোসেন খান। তিনি বলেন, সোহাগ বৃহস্পতিবার তার মাকে নিয়ে ময়মনসিংহ হাসপাতালে যান। মায়ের চিকিৎসার জন্য সে হাসপাতালেই ছিল। আমিও তাকে দেখতে গিয়েছিলাম। তখন সোহাগ গৌরীপুরের আরও ৪-৫ জন রোগীর কাছে নিয়ে যায়। আমি তাদেরও ভালো-মন্দ খোঁজখবর নিয়ে বাড়ি আসি। মহিলা ওয়ার্ডে রাতে পুরুষ থাকতে পারে না। তারপরেও সে মাকে ছেড়ে বাহিরে যেতে চাইনি। মধ্যরাতে মায়ের পাশেই এসে ঘুমায়। রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেখানেই মারা যান সোহাগ।দুপুরে কলাবাগানে তার জানাজা

নামাজ শেষে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন কার্য সম্পন্ন হয়। জানাজাত্তোর স্মরণসভা সঞ্চালনা করেন গৌরীপুর পৌরসভার কাউন্সিলর মো. সাদেকুর রহমান। স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ এমপি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোফাজ্জল হোসেন খান, ইউএনও হাসান মারুফ, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মতিউর রহমান, অচিন্তপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাই, মাওহা ইউনিয়ন পরিষদের

চেয়ারম্যান আল ফারুক, বোকাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আল মোক্তাদির শাহীন, পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মো. আব্দুল কাদির প্রমুখ।ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. মতিউর রহমান জানান, রাত আড়াইটার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সেখানেই মারা যান সোহাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.