Breaking News

মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এগিয়ে আসি, জনস্বাস্থ্য অটুট রাখি।

প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম

মাটি, পানি, বায়ু ও বন পরিবেশের অংশ। মাটির সাথে জীবজগতের সবকিছু জড়িত। সকল প্রাণীর বাঁচার উপকরণ মাটি থেকেই আসে। তাইতো শাইখ সিরাজ মহোদয় ” মাটি ও মানুষ ” নামে একটি বিশেষ প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন। যার মাধ্যমে মাটির গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা অবগত হই। মাটি নিয়ে গান,কবিতা,প্রবন্ধ অনেক কিছু রচিত হয়েছে। আমরা মানুষ মাটি থেকে সৃষ্টি। শৈশবে মাটি নিয়ে কে না খেলা করেছে। মাটির সাথে মানুষের অনেক আবেগ জড়িত। মাটি দিয়ে থালা- বাসন,খেলনাসহ অনেক কিছু তৈরী করা হয়। মাটির ঘর বড় শান্তির ঘর।সে মাটি সম্পর্কে আমাদের চিন্তা করা দরকার।মাটি ও কৃষক অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। মাটিতেই কৃষক ফসল ফলায়। সোনালী আঁশ পাট মাটির গুণেই সোনালী। মাটি যে তার গর্ভ থেকে কতকিছু আমাদের জন্য বের করে দেয়, তার কোনো ইয়ত্তা নেই। সে মাটির স্বাস্থ্য সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া দরকার।

২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মানে কৃষি, শিল্পসহ সকল ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের কোনো বিকল্প নেই। তবে উন্নয়নকে টেকসই করতে মাটিসহ সকল পর্যায়ে পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কারণে মাটি ক্ষয় হচ্ছে। জমির পরিমাণ কমে যাচ্ছে। আবার বিশ্বে প্রতি মিনিটে ২১ হেক্টর কৃষিজমি বন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে।
প্রতি বছর ৭৫ লাখ হেক্টর জমি মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। প্রতি মিনিটে ৫০ হেক্টর জমি বালুকাকীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ এমাদুল হুদা বলেন,” মাটিতে বিপজ্জনক মাত্রায় কোবাল্ট, টিটেনিয়াম, ক্রোমিয়াম খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানুষের শরীরে মিশছে যা মানুষের জন্য বড় ধরনের হুমকি।”
মাটিতে ভারী ধাতুর উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

মাটিতে জৈব পদার্থ কমে গেছে। মাটিতে যদি জৈব পদার্থ ৫ শতাংশ থাকে তাহলে সে মাটিকে ভাল বলা হয়।
২ শতাংশ থাকলে সেটি মোটামুটি মান।
কিন্তু বর্তমানে মাটিতে জৈব পদার্থ ২ শতাংশের কম।
* ইন্টার গভর্ণমেন্টাল সায়েন্স পলিসি প্ল্যাটফর্ম অন বায়োডাইভারসিটি আ্যান্ড ইকোসিস্টেম এর এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ” বিশ্বজুড়ে প্রায় ৩২০ কোটি মানুষ মাটি দূষণের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ”

★ মাটিতে বেশী ফসল পাওয়ার লোভে জৈব সার বাদ দিয়ে রাসায়নিক সার ব্যবহার করার কারণে মাটি ধীরে ধীরে অসুস্থ্য হয়ে পড়ছে।এতে স্বাস্থ্য সম্মত খাদ্য তৈরী হচ্ছে না।
মাটিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মাটি তার স্বাভাবিক উর্বরতা শক্তি হারিয়ে ফেলছে। এই ধরনের মাটি থেকে উৎপাদিত ফসল ও শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে নানা রকম রোগব্যাধি বাসা বাঁধছে। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি।

অপরদিকে এই ধরনের মাটিতে প্রাকৃতিক মাছও জন্মায় না। আগে বর্ষাকালে জমিতে নানা ধরনের মাছ পাওয়া যেত।এখন আর পাওয়া যায় না বা কমে গিয়েছে।
* পৃথিবীর জীববৈচিত্র্যের ২৫ ভাগের সরাসরি আবাসস্থল হলো মাটি। তাই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন টেকসই মাটি ব্যবস্হাপনা।
মাটি বিভিন্নভাবে বিভিন্নস্হানে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। মাটির বোবা কান্না যদি আমরা বুঝতে না পারি তাহলে ভবিষ্যতে আমাদের সমূহ বিপদের মধ্যে পড়তে হবে।

পরিশেষে, মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্হা নিতে হবে। কারণ মাটি সুস্হ্য না থাকলে কৃষিজাত খাদ্যচক্র নিরাপদ থাকবে না, যার ক্ষতিকর প্রভাব জনস্বাস্থ্যে পড়তে পারে।

★ লেখকঃ শিক্ষাবিদ ও গবেষক
এবং প্রতিষ্ঠাতা,পরিবেশ ক্লাব বাংলাদেশ

Check Also

দৌলতপুরে ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে বৃদ্ধের আত্মহত্যা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে ইদ্রস আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *