Breaking News

মানুষের জীবন ও ক্যারিয়ারের Destiny (নিয়তি) যেভাবে তৈরি হয়!

বাংলাদেশে আমরা বর্তমান সময় পর্যন্ত ক্যারিয়ারে সফলতা বলতে সাধারণত বিসিএস ক্যাডার, ব্যাংক বা স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাওয়া মনে করলেও, ক্যারিয়ারে সফল হতে বিকল্প রাস্তাও আছে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঔষধ কোম্পানির মালিক যিনি, তিনি কি সফল নন? কিন্তু তাঁর সাফল্যের শুরুটা ছিল ফেরিওয়ালার মতো ঔষধ বিক্রয় থেকে। বাংলাদেশের অন্যতম সেরা শিল্পপতি ও প্রকাশকের শুরুটা ছিল ফুটপাতে ক্যালেন্ডার ও পোষ্টার বিক্রয় থেকে।

ক্যারিয়ারের যে কোন অপশনে (বিসিএস, ব্যাংক, স্কলারশিপ সহ বিদেশে পড়াশোনা থেকে উদ্যেক্তা হওয়া) সফল হতে হলে পরিশ্রমী ও সৃজনশীল হতেই হবে। আমি ঔষধ কোম্পানির মালিক ও প্রকাশকের কথা উল্লেখ করলাম, তাঁরা উদ্যেক্তা।

কোন সাফল্যের Shortcut বা সহজ পথ নাই। একটি ১০ তলা ভবনের ছাদ যদি সাফল্যের লক্ষ্যের তুলনা হয়, সেখানে পোঁছতে সিড়ি দিয়েই কষ্ট করে যেতেই হবে। কোন লিফট নাই! যারা লিফট খুঁজবে, ব্যর্থতা তাদের সুনিশ্চিত।

জীবনে ব্যর্থ হওয়ার মুখ্য কারণগুলো হচ্ছে — নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি, নিজ সৃষ্ট (Self-Created) অজুহাত, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের ও সুন্দর পরিকল্পনার অভাব এবং কয়েকবার ব্যর্থতার পর হাল ছেড়ে দেওয়া।

টানা ষষ্ঠবার যুদ্ধে পরাজিত স্কটিশ স্বাধীনতার বীর রবার্ট ব্রুস পাহাড়ে এক মাকড়সা দেখে নতুন স্বপ্ন দেখেছিলেন। অনেকবার চেষ্টায় করেও জাল বুনতে পারছিলো না একটা মাকড়সা। তবু দমে যায়নি সে, টানা প্রচেষ্টায় ঠিকই সফল হয় সেই মাকড়সা। আর এতেই ঘুড়ে দাঁড়ানোর আত্মবিশ্বাস পান রবার্ট ব্রুস। বিশ্বাস করতে শুরু করেন অধ্যবসায় থাকলে সাফল্য আসবেই। বানুকবার্নের যুদ্ধে ইংরেজদের পরাজিত করে স্টারলিং দুর্গের দখল, ইতিহাসে লেখা হয় স্কটিশদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস।

জীবনে সফলতার জন্য একাডেমিক রেজাল্ট গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দূর্ঘটনা বা ভুলবশত ‘এ প্লাস’ না পেলে যে জীবন ব্যর্থ — তা আমি মনে করিনা। আমার বিশ্বাসে সাফল্যের মূল মন্ত্র হচ্ছে — সঠিক (ইতিবাচক/পজিটিভ) দৃষ্টিভঙ্গি, হাল না ছেড়ে লেগে থাকা ও ধৈর্য/অপেক্ষা। বিল গেটস এর মতে, “ধৈর্য/অপেক্ষা হলো সাফল্যের একটি প্রধান শর্ত”। তবে এ ধৈর্য/অপেক্ষা হাত-পা-মস্তিস্ক গুটিয়ে অসহায়ের মতো বসে থাকা নয়, এ ধৈর্য/অপেক্ষা হাল না ছেড়ে ক্রমাগত প্রচেষ্টার। প্রচেষ্টা ছাড়া কোন প্রার্থনা কবুল হয় না।

সঠিক (ইতিবাচক/পজিটিভ) দৃষ্টিভঙ্গি কি? প্রতিটি অনুকূল বা প্রতিকূল পরিস্থিতি (অর্থাৎ ভালো বা মন্দ) সহজ ও স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করে এগিয়ে যাওয়াই হচ্ছে — সঠিক/পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি (জীবনদৃষ্টি)। ‘তোমার কি নাই বা কি তুমি পার না বা কি তুমি হারিয়েছ — তা নিয়ে হতাশায় ও আত্মবিশ্বাসহীনতায় না ভুগে যা তুমি পার তা দিয়ে শুরু করাটাই’ হচ্ছে — সঠিক (ইতিবাচক/পজিটিভ) দৃষ্টিভঙ্গি। আসলে ভুল দৃষ্টিভঙ্গি সমস্যাকে ‘সংকটে’ পরিণত করে; আর ইতিবাচক/পজিটিভ দৃষ্টিভঙ্গি সমস্যাকে পরিণত করে ‘সম্ভাবনায়’। জীবনে সফল ও ব্যর্থ মানুষের মধ্যে পার্থক্য শারীরিক কাঠামোয় নেই, পার্থক্য মনে। অর্থাৎ জীবনদৃষ্টিতে।

মানুষের মস্তিষ্কের ক্ষমতা বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ কম্পিউটারের চেয়েও অনেক অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন যার কার্যক্রম মনের উপর নির্ভরশীল। মনছবি’ হলো যে কোন সাফল্যের ‘ভ্রুণ’। মনছবি’ হচ্ছে — প্রশান্ত মনের স্থির পর্দায় গভীর বিশ্বাসে ও একাগ্র চিত্তে আঁকা সাফল্যের ছবি বা সফলতার ব্লু প্রিন্ট (প্রতিচিত্র)। মনছবির এ প্রক্রিয়ার ফলপ্রসূতার জন্য নিম্নোক্ত ০৪টি শর্ত আছে —

১) স্থির লক্ষ্য; ২) লক্ষ্যে আস্থা; ৩) লক্ষ্যে তীব্র আকাঙ্ক্ষা ও আনন্দ; ৪) লক্ষ্য পূরণে লেগে থেকে নীরবে কাজ।
স্থির ও সুস্পষ্ট লক্ষ্যের ছবি (মনছবি) যখন মনে গেঁথে যায় তখন মানুষের মস্তিষ্কের কর্মগঠন বদলে যায় এবং তখন তোমার মস্তিষ্ক স্বয়ংক্রিয়ভাবে তোমার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নির্মাণের লক্ষ্য বাস্তবায়নের কাজে লেগে যায়। এটি বিজ্ঞানসম্মত। মনে রাখবে, বারবার লক্ষ্য পরিবর্তন করলে তোমার মস্তিষ্ক কর্মপন্থা ঠিক করতে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে। সেকারণে লক্ষ্যে সংকল্পবদ্ধ থাক।

‘মনছবি’ কে মিসাইলের সাথে তুলনা করা হয়। মিসাইলের যেমন টার্গেট নির্ধারণ করে দিলে আর কোনো দিক-নির্দেশনার প্রয়োজন হয় না। মিসাইল নিজের পথে এগিয়ে চলে, ‘মনছবি’ও ঠিক তেমনি। ‘মনছবির’ মাধ্যমে লক্ষ্যের ছবি অবচেতন মনে বসিয়ে দিলে মন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সে লক্ষ্যে পৌঁছার জন্যে দুর্দমনীয় আগ্রহ ও উদ্যম সৃষ্টি করে নির্দিষ্ট সাফল্যের গন্তব্যে পৌঁছার জন্যে যা যা করা দরকার তা করার জন্যে মনের গভীরে প্রবল ইচ্ছে শক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের তাড়না সৃষ্টি করে সাফল্য এনে দেয়।

Check Also

টাকা বিক্রি করেই ঘুরে জীবনের চাকা

গ্রাম-গঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় বটবৃক্ষের ছায়ায় সপ্তাহে দু-এক দিন হাট বসে এটা সকলেই জানেন, কিন্তু টাকার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *