Breaking News

” বজ্রপাতে মৃত্যুর মিছিল “–একটি পরিবেশ ভাবনা

প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম

বজ্রপাতে আকস্মিক মৃত্যু দিনদিন বাড়ছে। মৃত্যুর এই মিছিল বাংলাদেশে গত একদশক যাবত বেড়েই চলেছে। দেশে অন্যান্য দূর্যোগের মতো এটি একটি জাতীয় দূর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তাই সরকার এটিকে জাতীয় দূর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

গত ১৮ মে নেত্রকোনা জেলাতেই ৯ জন সহ মোট ১৮ জন মৃত্যু বরণ করছে।১৯ মে জামালপুরের ইসলামপুরে ৬ জন সহ ৮ জনের মৃত্যু হয়। ডিজাস্টার ফোরামের হিসেব মতে,গত এপ্রিল ও মে মাসের আজ পর্যন্ত ১৬৭ জন বজ্রপাতে মারা যায়। প্রতি বছর মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত বাংলাদেশে বজ্রপাতের ঘটনা বেশী ঘটে থাকে।তাই এই সময় বেশি সতর্ক থাকতে হবে।

বজ্রপাতে কৃষক ও যারা মাছ ধরে তারাই বেশি মারা যায়। নেত্রকোনা,সুনামগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ,জামালপুর ও গাইবান্ধা অঞ্চলে বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে বিভাগের মধ্যে সিলেট বিভাগে বেশি ঘটে। তাই এসব অঞ্চলের কৃষকদের সচেতন করা দরকার।

দুর্যোগ ব্যবস্হানা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জনসচেতনতার জন্য কিছু নিয়মনীতি প্রচার করছে।কিন্তু কৃষক ও জেলেদের কাছে এই সতর্কবাণী ঠিকমত হয়তোবা পৌঁছেনা।কারণ তারা সরকারি প্রচার মাধ্যমগুলো অনেকে দেখে না।এইজন্য ঘণ কালোমেঘ ও বজ্রপাতের পূর্বে তাদেরকে সচেতন করার ব্যবস্হা করতে হবে।বজ্রপাত প্রবণ এলাকায় লিফলেট বিতরণ করতে হবে।

খোলামাঠ বা বিলের মাঝেমাঝে ছাউনির ব্যবস্হা করা যেতে পারে।
বড় গাছ কেটে ফেলাতে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশী বাড়ছে।তালগাছ বর্তমানে খুব দেখা যায় না তাই বেশী বেশী তালগাছ লাগাতে হবে। তালগাছ বজ্রপাতের ঝুঁকি কমায়।
মোবাইল টাওয়ার, ডিজিটাল বিভিন্ন ডিবাইস ব্যবহার,গাছের পরিমাণ কমে যাওয়া, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ইত্যাদি বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।

গবেষকদের মতে,পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশ একটি বজ্রপাত ঝুঁকি প্রবণ দেশ।তাই আমাদের এই ঝুঁকি রোধের প্রচেষ্ঠা চালিয়ে যেতে হবে।
আমাদের সকলকে বিশেষকরে খোলামাঠে যারা কাজ করে এবং নদী বা সাগরে যারা মাছ ধরে তাদেরকে দুর্যোগ ব্যবস্হাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।

বজ্রপাত হলে কোন গাছের নীচে, টিনের ছাউনির নীচে, পুকুর বা জলাশয়ের পাশে দাঁড়ানো যাবে না।
আসুন আমরা বজ্রপাতের দ্বারা মৃত্যুর মিছিল লম্বা না করে এ বিষয়ে সতর্ক হই।

Check Also

দৌলতপুরে ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে বৃদ্ধের আত্মহত্যা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে ইদ্রস আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *