মুনিয়ার মৃত্যু: আনভীরকে গ্রেপ্তারে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ২৪ ঘণ্টা

ঢাকার গুলশানে কলেজ ছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ‘আত্মহত্যার প্ররোচনার’ মামলার আসামি বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

বুধবার বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আনভীরকে গ্রেপ্তার না করলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে বলে জানিয়েছে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।

মানববন্ধনে মঞ্চের সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেন, “সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল অনিয়ম-অসঙ্গতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার পাশাপাশি বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন ও সংগ্রাম করে যাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। এর ধারাবাহিকতায় বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কলেজ ছাত্রী মুসারাত জাহান মুনিয়ার হত্যাকারী বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ।”

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মো. আল মামুন বলেন, “পরিবারের দাবি, মুসারাত জাহান মুনিয়াকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। একজন কলেজপড়ুয়া নারীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে আনভীর যে অপরাধ করেছে, তা দেশের প্রচলিত আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

“আমরা বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বদ্ধপরিকর। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা আমাদের জন্য লজ্জাজনক।”

আনভীরকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “মুনিয়া হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য নানাবিধ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করার জন্য আনভীর গংরা মুনিয়ার চরিত্র হননে লিপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের দাবি, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুনিয়ার হত্যাকারী সায়েম সোবহান আনভীরকে গ্রেপ্তার করতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচী ঘোষণা করবে।”

মানববন্ধনে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনেট মাহমুদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি হুমায়ন আহমেদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শুভ্র মাহমুদ বক্তব্য দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.