Breaking News

৩০০ লোকের খাবারের আয়োজন ৭০ হাজার টাকা নিয়ে বিয়ের দিন উধাও পু’লিশ বর

নিজেকে পু’লিশ সদস্য পরি’চয় দিয়ে ওই যুবক মে’য়েটিকে জানান যে তার নাম সোহাগ, তিনি রা’জশাহী শহরের বাসি’ন্দা। বাবা বেঁচে নেই। একজন পু’লিশ সদস্য হিসেবে শরীয়তপুরের নড়িয়া থা’নায় চা’করি করছেন। একপর্যায়ে ওই যুবক বা’ণীকে বিয়ের প্র’স্তাব দিলে বাণী বিষয়টি তার পরিবারকে জানান।

পরে বাণীর পরিবার ওই যুবক ও তার চাচা পরিচয়ে এক ব্য’ক্তির সঙ্গে মোবাইল ফোনে আ’লা’প আলোচনার পর বি’য়েতে মত দেন। গত ৩ জানুয়ারি বিয়ের দিন ধা’র্য করা হয়। ৪০ জন বর’যাত্রী আ’সার কথা। এরই মধ্যে ওই যুবক বাণীকে জানান, তার নাকি আইডি কার্ড হা’রি’য়ে গেছে। বেতনের টাকা তুলতে পারছেন না।

তাই বিয়ের খরচের জন্য বাণীর পরি’বারের কাছে এক লাখ টাকা দাবি করেন ওই যুবক। বি’য়ের আগে টাকা না পেলে নাকি তার বিয়ে করা সম্ভব হবে না। দ’রি’দ্র মালেক চৌ’কিদার মে’য়ের বিয়ের জন্য তার দুই ক’ড়া জমি বি’ক্রি করেন এবং আরও এক লাখ টাকা ঋ’ণ নেন। বিয়ের এক সপ্তাহ আগে তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ওই যুবককে ৭০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেন।

বাকি টাকা দিয়ে বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করেন। বিয়ের আ’গের রাত পর্যন্ত বাণী ও তার পরিবারের সঙ্গে ওই যু’বকের ফোনে যোগাযোগ ছিলো। বিয়ের দিন সকাল থেকে বাড়িতে বিয়ের আ’য়োজন চলতে থাকে এবং মেহমান’রাও আসতে থাকেন। বরযাত্রী কতদূর, তা জানার জন্য বাণীর পরিবার ওই যুবকের মোবাইল ফোনে কল করলে ফোনটি ব’ন্ধ পাওয়া যায়।

এরপর এ’কাধি’ক নম্বর দিয়ে বার বার কল করেও কো’নো কাজ হয়নি। বরের মোবাইল ফোন বন্ধ জানতে পেরে বাড়ির সবাই চি’ন্তি’ত হয়ে পড়েন। লোকজনের মধ্যে স’ন্দে’হ বাড়তে থাকে। ধীরে ধীরে বিয়ে বাড়ির আনন্দ বি’ষা’দে পরিণত হতে থাকে। থেমে যেতে থাকে বিয়ের আয়োজন ও কো’লাহ’ল। দি’শেহা’রা হয়ে পড়ে বাণীর পরিবার।

কি করবেন কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তাদের স’ন্দে’হই সত্যি হয়েছে। বরবেশে ওই যু’বক আসেননি। বাণীরও বধূবেশে শ্বশুরবাড়িতে যাওয়া হয়নি। মা’থায় হাত পড়ে বা’ণীর বাড়ির সবার। এ ঘটনায় হ’তবা’ক হয়ে যান পুরো এলাকার লোকজন।

এ ঘটনা জানতে পেরে মঙ্গলবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে বা’ণীদের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, বাণী তাদের বসতঘরের বা’রান্দায় নি’র্বা’ক বসে আছেন। হাতে মেহেদীর রং। ঘটনার পর থেকে তিনি মা’নসি’কভাবে ভে’ঙে পড়েছেন। নাওয়া-খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ল’জ্জা’য় কারো কাছে মুখ দেখাতে পারছেন না।

কারো সঙ্গে তেমন কথাও বলছেন না। নি’জেকে গু’টিয়ে রাখছেন। বাড়ির সবাই চুপচাপ, শো’কের বাতাস বইছে বাড়িতে। সাংবাদিক দেখে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন এবং বলতে থাকেন এমন ঘটনা এর আগে তারা ক’খনো দেখেননি-শোনেননি। পঞ্চ’ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর দা’রিদ্র্যে’র কারণে আর লেখাপড়া করতে পারেননি বাণী।

জানতে চাইলে বাণী বলেন, ইমো গ্রু’পের মাধ্যমে পরিচয় হওয়ার পর তার সঙ্গে আমা’র সম্প’র্ক হয়। ও আমাকে বলেছে, ওর বাড়ি রাজশাহী শহরে এবং সে নাকি নড়িয়া থা’নায় পু’লিশে চাকরি করে। নড়িয়াতে আমি তার স’ঙ্গে দুইবার দেখা করেছি। সে আমাকে বিয়ে করবে বলেছিল।

বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়ার পর তার নাকি আইডি কা’র্ড হা’রি’য়ে গেছে। এজন্য সে তার বেত’নের টাকা তুলতে পারতেছে না। তাই আমাদের কাছে বিয়ের খরচের জন্য এক লাখ টাকা চেয়েছে। আম’রা তার ক’থায় বিশ্বা’স করে ৭০ হাজার টাকা পাঠিয়েছি এবং বিয়ের আয়োজন করেছি। কিন্তু সে আমাদের সঙ্গে প্র’তার’ণা করেছে।

আমাদের স’র্বনা’শ হয়ে গেছে। এখন আম’রা কি করবো বুঝতে পারতেছি না। আম’রা অ’সহা’য়। আম’রা এর সুষ্ঠু বি’চা’র চাই। এসময় বাণী তার মোবাইলে ওই যুবকের একটি ছবি দেখান। ছ’বিতে দেখা যায় কোনো এক কোম্পানির সি’কিউ’রিটি গার্ডের ইউনিফর্ম পড়ে আছেন ওই যুবক। ইউনিফর্মে লেখা আছে সোহাগ ও সিকিউরিটি।

০১৯৫০৯৯২১২৮, ০১৩১৫৩৩৯৬৮৩, ০১৩১৪৯৮৪৯০৯ এসব নম্বরে ওই যুবকের সঙ্গে কথা হয়েছে বলে জানান বাণী ও তার পরিবার। মালেক চৌকিদার বলেন, আমি গরিব মানুষ। কেউ লে’খাপড়া জানি না। স’হায় সম্প’ত্তি তেমন কিছুই নাই। দিন আনি দিন খাই। চার ছে’লে-মে’য়ের মধ্যে বাণীই সবার বড়।

দুই কড়া জমি ছিলো, তাও মে’য়ের বিয়ের জন্য বিক্রি করে দিছি। টাকা পয়সা খুইয়ে শেষ পর্যন্ত মে’য়ের বিয়ে দিতে পার’লাম না। আমাদের মা’নইজ্জ’ত সব গেছে। এখন আমা’র মে’য়ের কী’ হবে? আম’রা কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। মা পারুল বেগম বিলাপ করছে আর বলছেন, আমাদের কী’ স’র্বনা’শ হয়ে গেল? এখন আমা’র মে’য়ের কী’ হবে?

সমাজে আম’রা মুখ দেখাবো ক্যামনে? প্রতিবেশী মতিউর রহমান চোকদার, মজিদ ঢালী, কামাল কাজী ও আনিছুর রহমান বলেন, মালেক চৌকিদারের পরিবার নি’তান্ত’ই গরিব ও সরল সহ’জ। কেউ লেখাপড়া জানেন না। সারাদিন গ্রামে গ্রামে ঘুরে ভা’ঙারি মা’ল সংগ্রহ ও বিক্রি করে কোনো রকম সংসার চালান।

মে’য়ের বিয়ের ব্যাপারে কারো স’ঙ্গে কোনো পরাম’র্শ করেননি। এলাকার লোকজন জানতে পেরে ওই যুবককে টাকা দিতে নি’ষে’ধ করেছে। কিন্তু তারা কারো কথা শোনেননি। ওই যুবকের সঠিক পরিচয়ও কেউ জানেন না। ক্ষ’তি যা হওয়ার হয়ে গেছে। আম’রা প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, ওই প্র’তার’ক যুবককে খুঁজে বের করে বি’চার করা হোক।

এ বিষয়ে বিলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহের সরদার বলেন, বিষয়টি এখনও পর্যন্ত আমাকে কেউ জানায়নি। তাছাড়া ছে’লে আমা’র ইউনিয়নের কেউ না এবং তার কোনো সঠিক ঠিকানা জানা নেই, এখানে আমা’র কিছু করারও নেই। তবে ঘটনাটি দুঃখজনক

। জাজিরা উপজে’লা নির্বাহী কর্মক’র্তা (ইউএনও) মোহাম্ম’দ আশ্রাফুজ্জামান ভূইয়া বলেন, বিয়ের কাবিন বা লিখিত কোনো চু’ক্তিপত্র না হওয়া পর্যন্ত এখানে আই’নগতভাবে কিছুই করার নেই। সামাজিকভাবে বিষয়টি মী’মাং’সা করতে হবে।

Check Also

বন্ধুর বউ ভাগানো ইকার্দি ফের পরকীয়ায় আসক্ত!

আর্জেন্টিনার তারকা মাউরো ইকার্দির নাম শুনলে মাঠের বাইরের অন্য এক মানুষের কথা মনে ভেসে ওঠে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *