Breaking News

মধ্যরাতে সাংবাদিকের গাড়ি থামিয়ে ‘বখশিশ’ চাইলো পুলিশ

চট্টগ্রামের জনপ্রিয় আইপি টিভি সিপ্লাস টিভিতে রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত শাহরুখ সায়েল। প্রতিদিনের মতো অফিস শেষে যাচ্ছিলেন নিজ বাসায়। কিন্তু পথিমধ্যে পুলিশের একটি টহল গাড়ি তাকে গাড়ি থামানোর সংকেত দিকে সে দাঁড়ায়। এরপর শুরু করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নানা ধরণের হয়রানি। সাংবাদিক পরিচয় দিয়েও রেহাই মেলেনি হয়রানি থেকে। এমনকি তাঁর কাছে চাওয়া হয় ‘বখশিশ’। ঘটনাটি চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানা এলাকায় ঘটেছে।

শাহরুখ সায়েল নামে হেনস্তার শিকার ওই সংবাদকর্মী বলেন, ‘অফিস থেকে কাজ শেষে ফিরছিলাম বাসার উদ্দেশে। এমন সময় ডবলমুরিং থানার চৌমুহনী মোড়ে মোটরসাইকেল থামানোর সংকেত দেয় থানা পুলিশের এক কনস্টেবল। মোটরসাইকেল থামানোর পর কনস্টেবল গাড়ির কাগজপত্র নিয়ে দূরে বসে থাকা পুলিশের উপপরিদর্শক মানিকের সাথে দেখা করতে বলে। আমি মানিকের কাছে গেলে মানিক আমাকে বলে তুই ঐদিকে দাঁড়া। তোঁর নাম কি? তোঁর বাপের নাম কি? তোঁর বাড়ি কই? তুই কি করছ? তোঁর এলাকায় এমপি কে? এমন বিভিন্ন ধরনের অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্ন করতে থাকে।’

তিনি বলেন, ‘পরে আমি এমপির নাম বলায় সে আমাকে প্রশ্ন করে তুই কি এমপির লোক এতো রাতে গাড়ি নিয়ে ঘুরস কেন? তোঁর গাড়ি এখন আমি আটক করবো। তোর গাড়ির কাগজ দে। গাড়ির সকল কাগজ তাকে দেওয়ার পরও কোনভাবে আটকাতে না পেরে কনস্টেবলকে জিজ্ঞেস করে আমার হেলমেট ছিল কিনা৷ এরপর কনস্টেবল উত্তরে বলে হেলমেট ছিল।

একপর্যায়ে ইশারায় কনস্টেবল আমাকে একটু সাইডে ডেকে নিয়ে বলে— ‘স্যারের জন্য কিছু বখশিস দিয়া দেন।’ আমি বখশিশ দিতে না চাওয়ায় উত্তেজিত হয়ে তিনি আমাকে বলতে থাকেন তুই বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালিয়েছিস। এদিক সেদিকে ঘোরাঘুরি করছিস। তোঁরে থামতে বলার পরেও তুই থামতে চাসনি।’

কেন এ ধরণের হয়রানি করছেন?— প্রশ্ন করলে সে বলে, ‘এগুলো কোনো হয়রানি না এটা আমার পেশাগত দায়িত্ব। এরপর সে আমার মুভমেন্ট পাস আছে কিনা জানতে চান। তখন আমি বলি সংবাদকর্মীদের জন্য মুভমেন্ট পাস প্রযোজ্য নয়। তখন এস আই মানিক বলেন— কিসের সাংবাদিক! কিসের সিপ্লাস! প্রেস ক্লাবের নিবন্ধন আছে? এমন পরিস্থিতিতে আমি মুঠোফোনে ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীনের সাথে যোগাযোগ করলে সে বলে কার সাথে যোগাযোগ করবি কর। পরবর্তীতে ওসি মহসীনকে বিষয়টি জানানো হলে তার নির্দেশে ছেড়ে দেয়।’

ওই উপপরিদর্শককে সতর্ক করার আশ্বাস দিয়ে উপ-পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, ‘বিষয়টি আমি দেখছি। আমি তাঁকে সতর্ক করে দিব, ভবিষ্যতে এ ধরণের ঘটনা যেন না ঘটে।’

এর আগেও চলতি বছরের ৯ মার্চ চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় ঢুকে নামের মিলের কারণে তাঁর ভাইকে মধ্যরাতে আটক করে ১২ ঘণ্টা থানায় রাখে ডবলমুরিং থানা পুলিশ। শুধু আটক করেই ক্ষান্ত হয়নি ফিল্মি কায়দায় দেয়াল টপকে রীতিমত সাবেক কাউন্সিলর ও তার স্ত্রীর সঙ্গেও দুর্ব্যবহার ও বাসা তছনছ করার অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে ওই কাউন্সিলরের ভাইকে ১২ ঘণ্টা থানায় আটকে রাখার পর ‘সরল বিশ্বাসে ভুল’ বলে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

Check Also

দৌলতপুরে ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে বৃদ্ধের আত্মহত্যা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে ইদ্রস আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধ গলায় ফাঁস …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *