কোভিড-১৯: নিউ ইয়র্কে এবারও মসজিদে ইফতার হচ্ছে না, সিডিসির গাইডলাইন মেনে তারাবি

২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির ইফতার মাহফিল; কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এবারও মসজিদে ইফতার করা হচ্ছে না। ফাইল ছবি।

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে এবারের রমজানেও নিউ ইয়র্কের মসজিদগুলোতে ইফতার বিতরণ বাতিল করা হয়েছে। মাগরিবের নামাজ কিছুটা দেরিতে শুরু করা হবে যাতে মুসল্লিরা ইফতার সেরে জামাতে অংশ নিতে পারেন।

কয়েকটি মসজিদে খতম তারাবির কর্মসূচিও স্থগিত করা হয়েছে। সিডিসির নির্দেশনা মেনে নামাজ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।

প্রতি বছর রমজান মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের পরিচালনায় দুই শতাধিক মসজিদসহ প্রায় ২ হাজার ৭০০ মসজিদে তারাবির নামাজ পড়া হয়। বেশিরভাগ মসজিদেই রোজাদারের মধ্যে ইফতার বিতরণ করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর করোনাভাইরাস সংক্রমণে লকডাউন থাকায় ইফতার বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছিল। এবার লকডাউন না থাকলেও মহামারি পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে ইফতার বিতরণ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে বিভিন্ন মসজিদ কমিটি।

নিউ ইয়র্কে সবচেয়ে বড় মসজিদ জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের সেক্রেটারি মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১২ এপ্রিল সোমবার তারাবি শুরু হতে পারে। রাত সোয়া ৯টায় জামাত হবে। তাদের মসজিদে খতম তারাবি অনুষ্ঠিত হবে।

মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, “করোনাভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে এবারও ইফতার বিতরণের কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। তাই, মাগরিবের নামাজ নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট পর শুরু হবে। সিডিসির নির্দেশনা পুরোপুরি প্রতিপালনে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। মাস্ক পড়তে হবে। মানতে হবে সামাজিক দূরত্ব। সবাইকে জায়নামাজ সঙ্গে আনতে হবে।”

ব্রুকলিনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টারের প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব আবুল হাশেম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “করোনাভাইরাসের কারণে এবারও মসজিদে ইফতার পরিবেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নিতে হয়েছে।”

ব্রুকলিনের সংবাদদাতা শহীদুল্লাহ কায়সার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, সেখানকার বেলাল মসজিদ এবং চার্চ এভিনিউতে ব্রুকলিন মুসলিম সেন্টারেও ইফতার পরিবেশনের কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। এবার খতম তারাবি হবে না। তারাবির নামাজে নারীদের অংশগ্রহণও স্থগিত করা হয়েছে।

সাংবাদিক আবুল কাশেম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, এস্টোরিয়ার মসজিদে মাগরিবের নামাজে অংশ নিতে আসা কেউ ইফতার করে আসতে না পারলে একটি খেজুর ও পানির ব্যবস্থা থাকবে। মসজিদ কমিটির সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, তারাবির নামাজ সিডিসির বিধি মেনেই অনুষ্ঠিত হবে।

জ্যাকসন হাইটস এলাকার মাদানী মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজ ওসমানী, জ্যাকসন হাইটস মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. সাদিক এবং থার্টি নাইন এভিনিউর উডসাইড বায়তুল জান্নাহ মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তৈয়বুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, যেসব মুসল্লি কোন কারণে ইফতার করে আসতে পারেননি- এমন ক্ষেত্রে তাদের জন্য একটি করে খেজুর ও পানির ব্যবস্থা রাখা হবে।

প্রবাস পাতায় আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাস জীবনে আপনার ভ্রমণ,আড্ডা,আনন্দ বেদনার গল্প,ছোট ছোট অনুভূতি,দেশের স্মৃতিচারণ,রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক খবর আমাদের দিতে পারেন। লেখা পাঠানোর ঠিকানা [email protected]। সাথে ছবি দিতে ভুলবেন না যেন!

Leave a Reply

Your email address will not be published.