পুরুষ কুলির মাঝে, ইনি একজন মহিলা কুলি যিনি তার নিজের উপার্জিত টাকা দিয়ে ছেলেমেয়েকে অফিসার বানাতে চান

কোন মহিলার জীবনে কম সংগ্রাম হয় না। যদি তার স্বামী মারা যায় তবে পরিবারের শিশুদের দায় তার ওপর পড়ে। তাদের ঘর এবং বাহির ওভার দায়িত্ব পালন করতে হয়। আজ আমরা আপনাকে তেমনই একজন সংগ্রামী মায়ের গল্প বলতে যাচ্ছি। তিনি তুলে হিসেবে কাজ করেন। সেই মহিলার নাম সন্ধ্যা এবং তিনি 31 বছর বয়সী। প্রায়শই লোকেরাই মহিলা গুলিকে দেখে অবাক হন তবে সন্ধ্যা লোকের চিন্তাভাবনা উপেক্ষা করে পুরো শক্তি দিয়ে তার কাজ করেন। তিনি বলেন জীবন তার কাছ থেকে তার জীবন সঙ্গী করে নিয়েছেন। তার সব স্বপ্ন গুলো ভেঙে গেছে। কিন্তু তিনি তার বাচ্চাদের পড়ালেখা শিখিয়ে অফিসার বানাতে চান।

তিনি তার বাচ্চাদের নিয়ে আবার নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু করেছেন। তিনি এর জন্য কারোর কাছে হাত পাততে চান না। কথাগুলো শুনে আপনি অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন তিনি একজন শ্রদ্ধাশীল মহিলা কারোর কাছে সাহায্য চাওয়ার পরিবর্তে তিনি নিজের চেষ্টায় অর্থ উপার্জন করে তার ছেলে মেয়েকে মানুষ করছেন।

তিনি একজন বৃদ্ধ শাশুড়ি এবং তিন সন্তান লালন পালনের জন্য দায়বদ্ধ এবং এই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য তিনি যাত্রীদের বোঝা বহন করে। তিনি তার কাজের জন্য তার নামের রেলওয়ে কুলির লাইসেন্স পেয়েছেন এবং এখন তিনি পুরো যত্ন ও সাহসের সাথে এই কাজটি করেন।

তিনি যখন যাত্রীদের ওজন বহন করে রেলওয় প্লাটফর্ম এ হাঁটেন তখন সমস্ত লোক তাকে দেখে অবাক হয় এবং তার সাহসের প্রশংসা করে। সন্ধ্যা জানুয়ারি 2017 থেকে এই কাজটি করে চলেছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন যে তাকে বাধ্য কাজটি করতে হয় কারণ তার বৃদ্ধ শাশুড়ি এবং তিন সন্তান লালন পালনের জন্য অর্থ উপার্জন করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেছেন যে তিনি খাটনিতে স্বামীর সাথে থাকতেন। তখন তিনি অন্যান্য মহিলাদের মতনই বাড়িতে থেকে বাচ্চাদের যত্ন করতেন। হঠাৎ করে তার স্বামী অসুস্থ হয়ে যায় এবং তাঁর এই অসুস্থতার দীর্ঘকাল স্থায়ী হতে থাকে এবং তারপরে 22 অক্টোবর 2016 তে তিনি মারা যান।

স্বামী মারা যাওয়ার পরে সন্ধ্যার কাধে সমস্ত দায়িত্ব এসে যায়। সন্ধ্যা বলেছিল যে আমি যখন কোন চাকরির সন্ধান করছিলাম তখন কেউ আমাকে বলেছিল যে রেলস্টেশনে কুলির জন্য লোক নেওয়া হবে। আমার তখন পরিবারের জন্য একটি চাকরির খুবই প্রয়োজন ছিল। তখন আমি এই কাজের জন্য আবেদন জানাই।

সন্ধ্যা জামালপুরে থাকেন এবং কাজের জন্য তিনি কুন্ডম থেকে 90 কিলোমিটার ভ্রমন করেন ক্রেতলি রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছানোর জন্য। তিনি আরো বলেছেন যে রেলওয়ে স্টেশনে 45 জন পুরুষ কুলি এবং তার মাঝে তিনি একাকী মহিলা কুলি হিসেবে কাজ করেন।

সন্ধ্যার তিনটে বাচ্চা সাহিলের বয়স 8 বছর হরষিত বছর এবং কন্যা পায়েলের বয়স 4 বছর। তিনি চান তার বাচ্চারা বড় হয়ে দেশের সেবায় জন্য সেনাবাহিনীতে অফিসার হয়ে উঠুক। এই মায়ের চেতনার প্রতি কুর্নিশ যিনি শিশুদের লালন পালনের জন্য আত্মসম্মানের সাথে লড়াই করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.