দরিদ্র ঘরের মে’য়ে রাবেয়ার মেডিকেলে পড়ার দায়িত্ব নিলেন এমপি জর্জ

মেধা তালিকায় স্থান পেয়েও দরিদ্রতার কারণে মেডিকেল কলেজে ভর্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয় রাবেয়া আক্তার রুমির। ফুটপাতে সিঙ্গারা-চপ বিক্রেতা রমজান আলীর পক্ষে মে’য়েকে মেডিকেলে পড়ানোর স্বপ্ন যেন ম্লান হতে বসেছিল। মে’য়ে মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে সেই আনন্দের বদলে দুশ্চিন্তা পড়েন রুমি ও তার পরিবার।

সামাজিক যোগাযোগ ও গণমাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কুষ্টিয়া-৪ (কুমা’রখালী-খোকসা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জের। শনিবার (১০ এপ্রিল) সকালে তিনি রাবেয়ার বাবা রমজান আলীকে লোক পাঠিয়ে তার কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে যান। সবকিছু শুনে তিনি রাবেয়ার রংপুরে মেডিকেল কলেজে ভর্তি থেকে শুরু করে ডাক্তারি পড়ালেখার সব খরচ বহন করার ঘোষণা দেন।

কুষ্টিয়ার কুমা’রখালী পৌরসভা’র ৬ নম্বর ওয়ার্ড সেরকান্দির বাসিন্দা রমজান আলীর মে’য়ে রাবেয়া। কুমা’রখালী এমএন পাইলট হাইস্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি ও কুমা’রখালী সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাস করেন। অর্থের অভাব থাকলেও মেধার জো’রে রংপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

রাবেয়ার পড়ালেখার দায়িত্ব গ্রহণ করায় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন রমজান আলী। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানান।রাবেয়ার বাবা রমজান আলী বলেন, ‘আমি পড়ালেখা জানি না। মে’য়ের পড়ালেখায় আগ্রহ দেখে তাকে সাহস দিয়েছি। ক’ষ্ট হলেও মে’য়েকে আজ তার স্বপ্নের সিঁড়িতে ওঠাতে পেরেছি। আগামী দিনেও যত ক’ষ্ট হোক, তাকে প্রতিষ্ঠিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাব।’

মা লাইলা খাতুন বলেন, ‘সংসারে অভাব আছে। কিন্তু মে’য়ের পড়ালেখায় ক্ষতি হয়, তাই সেটা বুঝতে দিইনি।’সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সেলিম আলতাফ জর্জ বলেন, ‘দরিদ্রতা পড়ালেখার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে এটা জননেত্রী শেখ হাসিনার বাংলায় কখনও হতে পারে না। কেন না বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েছে।’তিনি আরও বলেন, ‘কুমা’রখালী-খোকসা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শুধু রাবেয়া নয়, এখানকার সব দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য আমা’র দুয়ার সব সময় খোলা থাকবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published.