ডায়বেটিস-এর মহৌষধ আমপাতা – আমেরিকান গবেষণা

উত্তর আমেরিকা, স্থানীয় একটি গ্রোসারী দোকানে বাজার করতে গিয়ে হঠাৎ চোখ পড়ল, এই পাতাগুলোর দিকে। লেবেল- এ লেখা দেখি, আম পাতা। $৪.৯৯ আমেরিকান ডলার প্রতি পাউন্ড! বাংলাদেশী টাকায় প্রায় সাড়ে চার শত টাকা। বুঝতে পারছিলাম না, মানুষ এখানে আম পাতা দিয়ে কি করে? দোকানটির একজন স্প্যানিশ কর্মচারী শপিং কার্ট ভর্তি কিছু সবজি নিয়ে আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন , উনার কাছে জানতে চাইলাম, উনি জানে কিনা আম পাতার ব্যবহার !

মুচকি হেসে বললেন, না তারও জানা নেই। বাজার শেষে কাউন্টারে ক্যাশিয়ার একজন বাঙালী মহিলা- তিনি জানালেন, আম পাতা নাকি ডায়বেটিস-এর মহৌষধ। আমপাতা জ্বাল দিয়ে চা খেলে নাকি বহুমূত্র রোগে উপকার পাওয়া যায়। আমপাতা বিক্রি হওয়ার অভিজ্ঞতা একটু অদ্ভুদ লাগল, তাই শেয়ার করলাম।
অবশেষে বুজতে পারলাম পৃথিবীর সকল গাছপালা ঔষধি গুনে ভরপুর।

আম খেতে সবাই পছন্দ করে। আমের স্বাস্থ্য উপকারিতার বিষয়েও কারো সন্দেহ নেই। কিন্তু আম পাতাও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারি যা আনেকেই জানেন না। আম পাতা ভিটামিন, এনজাইম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং খনিজ উপাদানে ভরপুর। আম পাতায় মেঞ্জিফিরিন নামক সক্রিয় উপাদান থাকে যার অপরিমেয় স্বাস্থ্য উপকারিতা আছে। কচি আমের পাতা সিদ্ধ করে সেই পানি পান করা বা পাতা গুরু করে খাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে আম পাতার ব্যবহার বর্ণনা করা হয়েছে। আম পাতার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলো সম্পর্কে জেনে নিই চলুন।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আম পাতার ব্যবহার সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই চলে আসছে। তাছাড়া উচ্চ রক্তচাপ ও ব্রঙ্কাইটিস, কিডনি ও পিত্তথলির পাথর দূরীকরণে, মাড়ির সমস্যায়, ডায়রিয়া নিরাময়ে এবং পেটের পীড়া প্রশমনেও আম পাতার ব্যবহার আজ সর্বজনস্বীকৃত।

গবেষণায় দেখা গেছে, কচি আম পাতায় ট্যানিনস নামক অ্যান্থোসায়ানিডিন থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বেশ উপকারী। এছাড়াও এ পাতা শরীরে ইনসুলিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং হাইপারগ্লাইসেমিয়া কমাতে সাহায্য করে- এমনটাই দাবি বিশেষজ্ঞদের।

ঘরোয়াভাবে আম পাতার সাহায্যে ডায়াবেটিসের ওষুধ তৈরি করা যায়। অনেক আধুনিক ওষুধ আছে, যা খাওয়ার পাশাপাশি যদি নিদির্ষ্ট ডায়েট চার্ট মেনে খাবার খাওয়া যায়, তাহলে এই মারণ অবস্থাকে অনেকটাই কাবু করে রাখা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published.