Breaking News

একই বাতি বিমানবন্দর কিনেছে ৪৬ লাখে, রাসিক ৩২ লাখ টাকায়

প্রতি ইউনিট অটো লিফটিং হাই মাস পোল (বিশেষ ধরনের বাতি সম্বলিত খুঁটি)-এর প্রতিটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ২ টাকায় স্থাপন করেছে রাজশাহীর শাহ্ মখদুম বিমানবন্দর। সেই একই ধরনের প্রতিটি খুঁটি বসাতে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) খরচ করেছে ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি ইউনিট পোলে শাহ মখদুম কর্তৃপক্ষের চেয়ে ১৩ লাখ টাকা কম খরচ দেখিয়েছে রাসিক।
রাসিকের এই ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকার দরপত্রকে বাজার দরের তুলনায় ‘অস্বাভাবিক’ উল্লেখ করে কোটি টাকা দু’র্নীতির অ’ভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতেই এক্ষেত্রে দু’র্নীতির আশ্রয় নেয়া

হয়েছে। অ’ভিযোগটি আমলে নিয়ে ৫ সদস্যের একটি ত’দন্ত কমিটি গঠন করেন রাসিকের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান (লিটন)। সেই কমিটির দেয়া প্রতিবেদনে একই লাইট শাহ্ মখদুম বিমানবন্দর ও রাসিকের দরপত্রে ১৩ লাখ টাকার পার্থক্যের সত্যতা উঠে এসেছে। ‘হাই মাস্ট লাইট টেন্ডারসহ অন্যান্য কাজে কোটি কোটি টাকা দু’র্নীতির অ’ভিযোগ’ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে একটি অ’ভিযোগ হলো, রাসিকের বিদ্যুৎ বিভাগ দেশের কোনো বিভাগ বা অফিসের রেট স্কেজিউল অনুসরণ অথবা কোনো কোম্পানির একক দর অথবা বাজার দর অনুসরণ না করে নিজের খেয়াল খুশিমতো এবং ঠিকাদারের চাহিদা অনুযায়ী কাজটির প্রাক্কলন করেছে। বর্তমান বাজার দর ও রেট স্কেজিউলের দরের চেয়ে অফিসিয়াল প্রাক্কলন পাহাড়সম বেশি। এ বিষয়ে

প্রতিবেদনে ত’দন্ত কমিটি পর্যবেক্ষণে বলেছে, ‘আলোচ্য দরপত্র দলিল সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, পিডব্লিউডি (গণপূর্ত অধিদফতর), এলজিইডি (স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর) বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের রেট স্কেজিউল বইয়ে হাই মাস পোলের রেট নেই। এক্ষেত্রে রাজশাহী শাহ্ মখদুম এয়ারপোর্টে ২০ মিটার অটো লিফটিং হাই মাস পোল স্থাপনে দর পাওয়া যায় ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ২ টাকা। রাসিকে অটো লিফটিং হাই মাস পোল স্থাপনের প্রাক্কলিত দর ৩২ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই দুই দর তুলনা করলে দেখা যায়, রাসিকের দরটি অ’পেক্ষাকৃত অনেক কম। এছাড়া আরও দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রাইস স্কেজিউলে আলোচ্য অটো লিফটিং হাই মাস পোলের স্থাপনসহ একক দর উদ্ধৃত করেছেন ৩১ লাখ ৪৭

হাজার টাকা, যা সিটি করপোরেশনের দরের চেয়ে ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ কম।’ গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি ত’দন্ত করার জন্য রাসিক মেয়রের নির্দেশে যে ত’দন্ত কমিটি গঠন করা হয়, তাদের আহ্বায়ক রাসিক প্রধান প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাশার। কমিটির সদস্যরা হলেন নেসকোর রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান, রাজশাহীর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাম’রুজ্জামান, রুয়েটের তড়িৎকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মামুনুর রশিদ এবং রাসিকের বিএওর সদস্য সচিব মো. শফিকুল ইস’লাম খান। এ বিষয়ে মো. কাম’রুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই আইটেমটা (অটো লিফটিং হাই মাস পোল) বাংলাদেশে আনকমন (অ’প্রচলিত)। আম’রা বিশ্লেষণ করেছি যে, আরও পারিপার্শ্বিক যেসব

জায়গায় এটা বসানো হয়েছে, যেমন রাজশাহীর শাহ্ মখদুম বিমানবন্দরে, ঢাকারও আরেকটি জায়গায়, সেই জায়গাগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছি। অন্যান্য জায়গায় আমি দেখেছি, সেগুলোর তুলনায় রাজশাহী সিটি করপোরেশন কম দরে কিনেছে।’ রাসিকের চেয়ে শাহ্ মখদুম বেশি দরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ওরা (শাহ্ মখদুম বিমানবন্দর) বেশি দরে কিনছে কী’ভাবে সেটা আম’রা ওইভাবে বিবেচনায় নেইনি। ওদের অ্যানালাইসিস আম’রা দেখি নাই। এখানকার (রাসিক) বিশ্লেষণে বেসিক রেট, তার সঙ্গে বিভিন্ন ভ্যাট, ইনকাম ট্যাক্স, কাস্টম ডিউটি এগুলো আলাদা করে দেখানো ছিল। এগুলো এখানকার জন্য পেয়েছি আম’রা। ওখানকারগুলো আম’রা ওইভাবে আসলে দেখতে পাইনি। মানে ওদের কাছ থেকে আম’রা ডকুমেন্টগুলো আম’রা ওইভাবে নেইনি। শুধু রেটটা নেয়া হয়েছে। এখন শাহ্ মখদুম বিমানবন্দরে প্রফিট মা’র্জিন কত রাখা হয়েছিল, কম না বেশি সেগুলো আম’রা দেখিনি। শুধু কত টাকায় কাজটা আহ্বান করা হয়েছে, সেগুলো নিয়েছি।’ ত’দন্ত কমিটির এই সদস্য আরও বলেন, ‘এগুলো দেশে বানানো

হয়নি। আম’দানি করা হয়েছে, যদিও কাছাকাছি সময়ে। যেসব অ’ভিযোগের ভিত্তিতে ত’দন্ত শুরু ‘রাজশাহী মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও নর্দমাসমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় লাইটগুলো স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পের কেনাকা’টা নিয়ে অ’ভিযোগ উঠলে ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি ত’দন্তের নির্দেশ দেন রাসিক মেয়র। ত’দন্ত কমিটি যেসব অ’ভিযোগকে সামনে রেখে ত’দন্ত শুরু করেন, সেগুলো হলো- রাসিক ১৬ এম হাই মাস্ট পোল উইথ লাইটিং সিস্টেম সরবরাহ ও স্থাপনের জন্য আহ্বান করা দরপত্রে যে দাফতরিক প্রাক্কলন করে তা বাজার দরের তুলনায় অস্বাভাবিক। একক দরদাতার গৃহীত দর গ্রহণে করপোরেশনের কয়েক কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। সেই ঠিকাদারের হু’মকিতে অ’ভিযোগকারী বা অন্য কেউ দর জমা দিতে পারেনি। করপোরেশনের প্যাডে কাউন্সিলর বা কর্মক’র্তারা এবং বে-নামে ঠিকাদাররা কী’ভাবে এই অ’ভিযোগ করেন? প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ত’দন্তের বিষয়বস্তু ছিল রাজশাহী সিটি করপোরেশনের

নেমপ্যাড কী’ভাবে কর্মচারী ও কাউন্সিলরের নামে ব্যবহার করা হলো? বেনামে ‘অসহায়’, ‘নির্যাতিত’ ঠিকাদারদের আনা অ’ভিযোগ। বেনামে কাউন্সিলর ও কর্মচারীদের আনা অ’ভিযোগ। স্থানীয় সরকার বিভাগের পাঠানো অ’ভিযোগপত্রের মতো একই ধরনের অ’ভিযোগ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণে আনা। কমিটির ত’দন্ত প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ তবে একাধিক ঠিকাদার, কাউন্সিলর ও কর্মচারীদের আনা অ’ভিযোগগুলোর কোনোটির ‘সত্যতা পাওয়া যায়নি’ উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে ত’দন্ত কমিটি। স্থানীয় সরকার বিভাগকে গত ৮ নভেম্বর ত’দন্ত প্রতিবেদন স’ম্পর্কে অবগত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে ত’দন্ত প্রতিবেদনটি পাঠান রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মক’র্তা ড. এ বি এম শরীফ উদ্দিন।

প্রধান নির্বাহীর সই করা সেই অবহিতকরণ চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘রাসিকের মেয়র গঠিত ৫ সদস্য বিশিষ্ট ত’দন্ত কমিটি সাত পাতার প্রতিবেদন দিয়েছে। প্রতিবেদনের নেমপ্যাড কী’ভাবে কর্মচারী ও কাউন্সিলরের নামে ব্যবহার করা হলো সে বিষয়ে রাসিকের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় সভায় এবং করপোরেশনের পরবর্তী সাধারণ সভায় সিদ্ধান্তের জন্য উপস্থাপনের নির্দেশনা দিয়েছেন মেয়র। প্রাপ্ত ত’দন্ত প্রতিবেদন সদয় অবগতি ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশক্রমে পাঠানো হলো।’ অ’ভিযোগগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ত’দন্ত কমিটি। প্রথম ক্যাটাগরির অ’ভিযোগগুলো হলো : অ’ভিযোগ ১ : দরপত্রে যেসব শর্ত ও কাজের অ’ভিজ্ঞতা, টার্ন ওভা’র দেয়ার কথা ছিল তা ‘Haro Engineering & Construction’-এর না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে। পর্যবেক্ষণ : দরপত্রে বর্ণিত যেসব শর্ত আরোপ করা হয়েছে আলোচ্য দরপত্রের আইডি ৩৪৮২৬২ পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সবগুলো শর্ত পূরণ করেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের টিডিএসে বর্ণিত সুনির্দিষ্ট অ’ভিজ্ঞতা রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড টেন্ডার ডকুমেন্ট ফর প্রকিউরমেন্ট অব গুডসে টার্ন ওভা’রের শর্তারোপ করার সুযোগ নাই। অ’ভিযোগ ২ : বিগত ৫ বছরে ‘Haro

Engineering & Construction’-এর ‘Gi High Mast Pole’ সরবরাহ ও স্থাপনের কোনো অ’ভিজ্ঞতা নেই। পর্যবেক্ষণ : ত’দন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ হলো- দরপত্র দলিলে ‘Gi High Mast Pole’ সরবরাহের অ’ভিজ্ঞতা চাওয়া হয়নি। অ’ভিযোগ ৩ : দরপত্রে দেয়া অ’ভিজ্ঞতার সনদ সঠিক নয়। এমনকি পাঁচ বছরের বৈদ্যুতিক সরবরাহ কাজে চাওয়া টার্ন ওভা’র নেই। পর্যবেক্ষণ : ত’দন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ হলো দরপত্র দলিলের আইডি ৩৪৮২৬২ পর্যালোচনায় দেখা যায় শর্ত মোতাবেক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অ’ভিজ্ঞতার সনদ দাখিল করেছেন। অ’ভিযোগ ৪ : দরপত্রে স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ঠিকাদার ক্যাটালগ দাখিল করেনি। পর্যবেক্ষণ : দরপত্র দলের আইডি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী ক্যাটালগ দাখিল করেছেন। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে একটিই অ’ভিযোগ রয়েছে। সেটি হলো- একটি মাত্র দরপত্র দাখিল হলেও পুনরায় দরপত্র আহ্বান না করে তা গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে কমিটির পর্যবেক্ষণ হলো- আলোচ্য

দরপত্রে ই-জিপিতে দাখিল করা টেন্ডার ওপেনিং রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, দু’টি দরপত্র দলিল বিক্রি করা হলেও একটি দরপত্র দাখিল হয়েছে। পিপিআর ২০০৮ এর বিধি ৯৮ উপবিধি ২৯-এ উল্লেখ রয়েছে যে, ‘বিধি ৯০ অনুসরণক্রমে বিজ্ঞাপন প্রকাশের পর দরপত্র দাখিলের জন্য নির্ধারিত সময়ের মধ্যে একটি মাত্র দরপত্র দাখিলকৃত হইলেও ক্রয়কারী উক্ত একক দরপত্র মূল্যায়নের জন্য দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির নিকট প্রেরণ করিবে।’ ‘এছাড়া, উক্ত বিধির উপবিধি ৩০ এ বর্ণিত আছে, “মূল্যায়নের সময় যদি দেখা যায় যে, কোন একক দরপত্র সংশ্লিষ্ট দরপত্র দলিলে উল্লিখিত শর্তের অনুবর্তী (complaint) এবং উদ্ধৃত মূল্য দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্যের কাছাকাছি এবং বাজার মূল্যের সমতুল, তাহা হইলে দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি উক্ত একক দরপত্র বিবেচনা করিবার কারণ যু’ক্তিসহ ব্যাখ্যা করিয়া উক্ত দরপত্রসহ মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিধি ৩৬ অনুসারে অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের নিকট পেশ করিবে”। দরপত্র মূল্যায়ন কার্যবিবরণী যাচাই করে দেখা যায়,

উক্ত কমিটি উপরে বর্ণিত বিধি, উপবিধি অনুসারে সঠিক সুপারিশ করেছেন এবং অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ এই সুপারিশ অনুমোদন করেছেন।’ আর তৃতীয় ক্যাটাগরির অ’ভিযোগ এবং ত’দন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ শুরুতে আলোচনা করা হয়েছে
ত’দন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে রাজশাহীর গণপূর্ত জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাম’রুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রতিবেদনে আম’রা সামগ্রিকভাবে কথা লিখিনি। আইটেমভিত্তিক যেভাবে অ’ভিযোগ এসেছে, আইটেম ধরে ধরে উত্তর দিয়েছি। তারপরও আম’রা কাজের মান নিজ থেকে দেখেছি। বিশেষ করে সেগুলো নামিয়ে দেখেছি। যতটুকু দেখা সম্ভব দেখেছি। সব দেখে আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে, এই জিনিসটা ঠিক আছে। সেটাই সামগ্রিকভাবে লেখা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি আইটেম মেলানো হয়েছে। যে আইটেমগুলো গণপূর্তের রেট স্কেজিউলে আছে, সেগুলো রেট স্কেজিউলের তুলনায় কম রেট দিয়ে তারা টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। টেন্ডার যেভাবে করা হয়েছে, দরপত্র মোতাবেক তাদের কাজটা ওইভাবে আছে কি না, সেটাও

আম’রা দেখেছি। এটাও আম’রা ঠিক পেয়েছি।’ ‘আম’রা বিশ্লেষণ করেছি যে, আরও পারিপার্শ্বিক যেসব জায়গায় বসানো হয়েছে, যেমন রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে, ঢাকারও আরেকটি জায়গায়; সেই জায়গাগুলোর সঙ্গে তুলনা করেছি। তারপর পিপিআরে ব্যত্যয় আছে কি না, অ’ভিযোগ অনুযায়ী দেখা হয়েছে। যেমন একটা অ’ভিযোগ ছিল মেকানিক্যালের লোক ইলেক্ট্রিক্যালের বিষয়গুলো দেখছে। যেহেতু তাদেরকে অফিসিয়ালি দায়িত্ব দেয়া হয়ে গেছে, ডকুমেন্ট আছে, ত’দন্ত যারা করেছি তা তুলে ধরেছি,’ যোগ করেন প্রকৌশলী কাম’রুজ্জামান। প্রধানদের বক্তব্যে অমিলবিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মক’র্তা ড. এ বি এম শরীফ উদ্দিনকে ফোন করেন জাগো নিউজের এ প্রতিবেদক। পরিচয় দেয়ার পর এ বি এম শরীফ

উদ্দিন বলেন, ‘হুঁ, বলেন প্লিজ।’ ত’দন্ত প্রতিবেদন স’ম্পর্কে প্রশ্ন করতেই তার উত্তর, ‘আমি একটা মিটিংয়ে আছি। এ বিষয়ে আপনি বিদ্যুৎ বিভাগের লিটু সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।’ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে ফোন করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন কে’টে দেন। অ’ভিযোগের বিষয়ে রাসিকের জবাব না পেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগকে জানিয়েছিলেন আইএমইডি পরিচালক। ‘রাজশাহী মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও নর্দমাসমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্পটি ২৯ সেপ্টেম্বর পরিদর্শনে গিয়েছিলেন বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) পরিচালক খলিল আহমেদ। এ সময় তিনি অ’ভিযোগগুলোর বিষয়ে রাসিকের জবাব চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে তা দেয়া হয়নি। পরে এসে তিনি স্থানীয় সরকার বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। এ বিষয়ে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মক’র্তাকে অবহিত করে রাসিকের নির্বাহী প্রকৌশলীর (বিদ্যুৎ) দেয়া এক নথিতে বলা হয়েছে, আইএমইডির পরিচালক খলিল আহমেদ

প্রকল্প পরিদর্শন সূচির আওতায় ‘রাজশাহী মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও নর্দমাসমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ এবং ‘Supply of 1000 nos. ballast for 120W LDV light & LED decorative tree light’ শীর্ষক পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর আনুমানিক বিকেল ৪টায় রাজশাহী বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তারপর প্রধান প্রকৌশলীর গাড়িতে করে তাকে নগর ভবনের গেস্ট হাউসে নিয়ে আসা হয়। তিনি ‘রাজশাহী মহানগরীর ৩০টি ওয়ার্ডের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও নর্দমাসমূহের উন্নয়ন’ প্রকল্পের কাজ পরিদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালককে সাথে নিয়ে প্রকল্পের সাইট পরিদর্শনে যান এবং প্রায় ২ ঘণ্টা সাইট পরিদর্শনের পর নগর ভবনের গেস্ট হাউজে আনুমানিক সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ফিরে আসেন। তারপর তিনি হাই মাস লাইট সংক্রান্ত কাজের নথিপত্র দেখতে চান। ওই নথিটিও তাকে দেয়া হয়। তিনি ওই নথির অ’ভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাসিকের জবাব চাইলে তাকে জানানো হয়, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগের পত্রের

বরাতে রাসিক মেয়রের অনুমোদনক্রমে একটি ত’দন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। ওই কমিটি নথির সব তথ্যের ছায়ালিপি নিয়েছেন এবং অ’ভিযোগের বিষয়ে ত’দন্ত করছেন। ওই কমিটিতে বিভিন্ন দফতরের কারিগরি সদস্যরা পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যে মতামত বা পর্যবেক্ষণ পাওয়া যাবে, সে আলোকেই অ’ভিযোগ জবাব/প্রতিবেদন দিতে হবে। প্রধান প্রকৌশলীর পরাম’র্শ বা নির্দেশনাসহ যে জবাব দেয়া হবে বা যাবে তা মেয়র কিংবা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণের সময়ের অভাবে তাকে কোনো জবাব প্রস্তুত করে দেয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে প্রধান নির্বাহী কর্মক’র্তাকে অবহিত করার জন্য বা তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তিনি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে মেয়র বা প্রধান নির্বাহী কর্মক’র্তার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় পাননি। পরদিন

সকাল ৯টায় ঢাকার উদ্দেশে নগর ভবনের গেস্ট হাউজ থেকে রাসিকের গাড়িতে করে তিনি রাজশাহী বিমানবন্দরে যাত্রা করেন।’ ইতোমধ্যে গঠিত ত’দন্ত কমিটির হাই মাস লাইট সংক্রান্ত অ’ভিযোগের ত’দন্ত প্রতিবেদন স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। উপর্যু’ক্ত বিষয় পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, আইএমইডির পরিচালককে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হলেও তার পরিদর্শন প্রতিবেদন প্রস্তুতির কাজ অসম্পন্ন থাকায় তিনি বিষয়টি স্থানীয় সরকার বিভাগকে অবহিত করেছেন। এ বিষয়ে রাজশাহীর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কাম’রুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাজশাহী মহানগরীর প্রধান প্রধান জায়গায় আলোর ব্যবস্থা করতে অটো লিফটিং হাই মাস পোল বসানো হয়েছে। এতে খুঁটির ওপর লাইট আছে।

লাইটগুলোর নিচে কন্ট্রোল, আর্থিং, বক্স, তার আছে। মেরামতের সময় চাইলে খুঁটিগুলোকে নিচে নামিয়ে দেয়া যাবে। সিঅ্যান্ডবি মোড়, কাম’রুজ্জামান চত্বর, সাহেব বাজার, তালাই’মা’রি এমন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সেগুলো বসানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রত্যেকটা লাইট সেটআপের জন্য একই দর আহ্বান করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগরীর যতগুলো লাইট সেটআপ বসানো হয়েছে, সবগুলোর জন্য একই দর। যদি তালাই’মা’রিতে ১০ লাখ খরচ হয়, তাহলে সিঅ্যান্ডবি মোড়েও একই রকম অর্থ খরচ হয়েছে।’ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আইএমইডির পরিচালক খলিল আহমেদকে দুই দিনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Check Also

পদ্মা সেতু এলাকায় আটক ভারতীয় নাগরিক রিমান্ডে

মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ে পদ্মা সেতুর নির্মাণাধীন এলাকায় আটক ভারতীয় নাগরিক উপেন্দ্র বিহারের (৪৫) ৬ দিনের পুলিশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *