ছেলেকে ২৮ বছর ঘরে আটকে রাখেন মা, পড়ে গেছে সব দাঁত

সন্তানের প্রতি মায়ের ভালোবাসার তুলনা হয় না। এরপরও মাঝে মাঝে কিছু ব্যতিক্রম খবর জানা যায়। তেমনই এক মা রয়েছেন সুইডেনে। নিজের সন্তানকে তিনি ২৮ বছর ধরে ফ্ল্যাটে বন্দি করে রেখেছিলেন। খবর নিউ স্ট্রেইট টাইমসের।

প্রায় ১০ বছর বয়স থেকে ছেলেটি ওই ফ্ল্যাটে বন্দি বলে জানা গেছে। তার বর্তমান বয়স ৪০ বছর। ফ্ল্যাটের মধ্যে খুবই নোংরা পরিবেশে আহত অবস্থায় খোঁজ মেলে তার। এক আত্মীয় তাকে ওই অবস্থায় ফ্ল্যাটের মধ্যে দেখতে পান।জানা যায়, বন্দি ব্যক্তির মায়ের অসুস্থতার খবর শুনে অজ্ঞাতনামা এক আত্মীয় এবং তার সঙ্গী এক সন্ধ্যায় ওই ফ্ল্যাটে

যান। ওই আত্মীয় জানিয়েছেন, তিনি সর্বশেষ এই ফ্ল্যাটে গিয়েছেন ২০ বছর আগে। ছেলেটির বয়স যখন ১১ বা ১২ তখন থেকে তাকে স্কুলের খাতা থেকে নাম কেটে ঘরে নিয়ে আসা হয়েছিল।ওই নারী ফ্ল্যাটের দরজা খুললে তিনি দেখেন, এটি একেবারে অন্ধকার, ধুলায় ঢাকা এবং সেখান থেকে মলমূত্র, ময়লা-

আবর্জনার পঁচা গন্ধ বেরুচ্ছে। যখন তিনি কে আছেন কিনা বলে ডাক দেন, তার জবাবে কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। এরপর তাকে স্তুপ হয়ে থাকা জিনিসপত্রের মাঝ দিয়ে ঘরে ঢুকতে হয়।

আরও পড়ুন: মায়ের পিছু পিছু যাওয়ায় শিশু শিক্ষার্থীকে এমন বেদম পেটায় শিক্ষক (ভিডিও)রান্নাঘরে শব্দ শুনতে পেয়ে তিনি দেখেন অন্ধকারে এক কোনায় একটা লোক বসা। বাইরে থেকে রাস্তার সড়ক বাতির আলোয় তাকে দেখা যাচ্ছিল। তার পা থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঘা হয়ে গেছে। ওই নারী সুইডেনের একটি সংবাদপত্রকে জানান, লোকটি যখন তাকে

দেখেন, তিনি উঠে দাঁড়ান এবং তার নাম ধরে বার বার ডাকতে থাকেন। লোকটির প্রায় সব দাঁত পড়ে গেছে এবং তার কথা ছিল অস্পষ্ট।তিনি বলেন, যেকোনোভাবেই হোক এত বছর পরেও লোকটি তাকে চিনতে পেরেছে এবং তাকে দেখে ভয় পাচ্ছিল না। স্টকহোমের একজন সরকারি কৌসুঁলি জানিয়েছে, লোকটির শরীরে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।

যে নারী এই লোকটিকে ফ্ল্যাটে গিয়ে খুঁজে পান, তিনি সুইডেনের পাবলিক টেলিভিশন নেটওয়ার্ককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, লোকটির মা এর আগে তার আরেকটি সন্তান হারিয়েছিলেন। সেটি নিয়ে তিনি মুষড়ে

পড়েছিলেন। দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর তিনি তার নাম রাখেন আগের সন্তানের নামে। সম্ভবত নতুন সন্তানকে খুব বেশি আগলে রাখার মাধ্যমে তিনি হয়তো তার মৃত সন্তানকে ফিরে পেতে চাইছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published.