নৌকা পেতে দুই কোটি টাকা

বিএনপি ইউপি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পর আরও কোমর বেঁধে নেমেছেন কেরানীগঞ্জের ১২টি ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। ১২টি ইউনিয়নে ১৫০ জনের মতো সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এখন টার্গেট শুধুই নৌকা। নৌকা প্রতীক পাওয়া মানেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া। প্রতীক পেতে নেতাদের কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করে দিয়েছেন জোরেশোরে।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা কেরানীগঞ্জ উপজেলা ইউনিয়নের আনাচে কানাছে রঙিন পোস্টারে ছেয়ে ফেলেছেন। দলীয় নমিনেশন নিয়ে চলছে দরকষাকষি। মনোনয়ন বাণিজ্য নিয়ে ক্ষমতাশীন দলের নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার ঝড় তুলছেন কেরানীগঞ্জে। আওয়ামী লীগের এক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, এবার দলীয় চেয়ারম্যান প্রতীক পেতে কমপক্ষে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত হাঁকিয়েছেন অনেকে। কেরানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের দুটি কমিটি হওয়ায় বর্তমান চেয়ারম্যানরা দিশেহারা। বর্তমান চেয়ারম্যানরা নমিনেশন না পাওয়ার আতঙ্কে ভুগছেন। এবার বিএনপি ইউপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করার ঘোষণার পর আওয়ামী লীগের শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থীরা নেমেছেন কোমর বেঁধে। দলীয় নমিনেশন না পেলে ১২টি ইউনিয়নে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হাট-বাজার ও ছোট ছোট চায়ের দোকানে চলছে নির্বাচনী হাওয়ার গল্প। কে পাবে এবার নৌকার টিকিট।

হযরতপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন আয়নাল, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, হযরতপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মেহেদী হাসান আরিফ ও আবুল কাসেম। কলাতিয়া ইউনিয়নে নৌকার টিকিট পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান তাহের আলী, ঢাকা জেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল বারেক, উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মোকসেদুর রহমান মোকসেদ, কলাতিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল আজিজ ও হাজি মো. আলাউদ্দিন। তারানগর ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হতে মাঠে নেমেছেন বর্তমান চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ফারুক, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাজি আবু সিদ্দিক, তারানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুর রহমান খানসহ অনেকে।

শাক্তা ইউনিয়নে নৌকা পেতে এবার হেভিওয়েট প্রার্থীদের ছড়াছড়ি। কেরানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান হাজি সালাহউদ্দিন লিটন, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের উপদপ্তর সম্পাদক হাজি হাবিবুর রহমান হাবিব, আওয়ামী লীগের উপকমিটির সম্পাদক ইফসুফ খান, জসিম উদ্দিন পিনু।

রোহিতপুর ইউনিয়নে বীর মুক্তিযোদ্ধা বর্তমান চেয়ারম্যান হাজি আব্দুল আলী, রোহিতপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সোলাইমান জামান, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সানজিব, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান।
বাস্তা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান চেয়ারম্যান আসকর আলী, বাস্তা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জেড এ জিন্নাহ, আওয়ামী লীগ নেতা মজিবুর রহমান।

কালিন্দী ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান হাজি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেন, কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক চেয়ারম্যান হাজি ফজলুর রহমান, কেরানীগঞ্জ উপজেলা মডেল থানা আওয়ামী লীগের সদস্য আবু হাসান মোস্তান, জিনজিরা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান হাজি সাকুর হোসেন সাকু প্রার্থী হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রার্থী গ্রুপিং লবিং করছেন। আগানগর ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান হাজি জাহাঙ্গীরশাহ খুশির বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজি মীর আসাদ হোসেন টিটু, সাধারণ সম্পাদক জাকির আহমেদ। শুভাঢ্যা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেনসহ একাধিক প্রার্থী রয়েছেন। কোন্ডা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান মো. ফারুক চৌধুরী, আওয়ামী লীগ নেতা সোহেল রানা আলোচনায় রয়েছেন।
তেঘরিয়া ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সদস্য হাজি মো. লাট মিয়া ও তেঘরিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহরচান মোল্লাহসহ অসংখ্য প্রার্থী রয়েছেন।

এ ব্যাপারে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ম. ই মামুন বলেন, আমরা এবার তৃণমূলে যার জনসমর্থন আছে, তাদেরই দলীয় মনোনয়ন দেব।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ইফসুফ আলী চৌধুরী সেলিম এক কর্মিসভায় বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক ত্যাগী নেতাদের দলীয় প্রতীক দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.