Breaking News

বার্গারে মিলল আস্ত একটি ব্লেড !

বিকেলের নাশতায় মজা করে খাচ্ছিলেন ভেজিটেবল বার্গার। মুখের মধ্যে শক্ত কিছু টের পেয়ে প্রথমে ভেবেছিলেন ভেজিটেবল বার্গারে ভুল করে চিকেন বার্গারের কিছু দিয়েছে। কিন্তু পরের কামড়ে টের পেলেন আসলে চিকেন নয়, শক্ত কিছু। মুখ থেকে বার্গার বের করে চোখ ছানাবড়া। ভেজিটেবল বার্গারে চিকেন নয়, বেড়িয়ে এলো আস্ত ব্লেড।

সোমবার (০৮ মার্চ) ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলামের সঙ্গে। যদিও বার্গার প্রস্তুতকারী দোকানদার অবশ্য মাফ চেয়ে পার পেয়েছেন।তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও সিটি করপোরেশনের সঠিক মনিটরিং না থাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি করে প্রকাশ্যেই বিক্রি করছেন এক শ্রেণির অসাধু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। এদের জন্য ক্ষতির মুখে পড়তে হয় ভোজন রসিকদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, বিকেলে আমি স্থানীয় এক অফিসে পার্ট টাইম জব করি। সেখানে বিবি পুকুর পাড়ের মনিরের বার্গারের দোকান থেকে ভেজিটেবল বার্গার নাশতা হিসেবে আনেন। খাবার সময়ে দেখি বার্গারের মধ্যে একটি আস্ত ব্লেড। ভাগ্য ভালো যে ব্লেডটি আমার দাঁতের কামড়ে টের পেয়েছি। যদি তা না হয়ে পেটে চলে যেত তখন কি হতো।তিনি জানান, মূলত দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের মনিটরিং না থাকায় রাস্তায় পাশের এসব দোকানে নিম্নমানের অস্বাস্থ্যকর খাবার বিক্রি করছেন। এসব খাবারে শুধু ভোক্তাদের ক্ষতি হচ্ছে তা নয়, মানুষকে জীবন সংকটে ফেলে দিচ্ছে।

শফিকুল আরও ইসলাম বলেন, ব্লেড দেওয়া বার্গারটি নিয়ে ওই দোকানদারকে দেখালে তিনি ভুল হয়েছে মর্মে স্বীকার করেন এবং ক্ষমা চান। বার্গার বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, কোনো বিক্রেতাই তার দোকানের ক্রেতাকে খারাপ কিছু খাওয়াতে চান না।আমিও চাই না, আমার আয় রোজগারের উৎসে আসা মানুষদের সাথে প্রতারণা করতে। আমার দোকানের বার্গারে ব্লেড পাওয়া গেছে তা আমি অস্বীকার করছি না। ঘটনাটি ভুলবশত হয়েছে। আমি জানি না কিভাবে বার্গারে ব্লেড ঢুকলো। তারপরও তাদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়েছি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শাহ সোয়াইব মিয়া বলেন, আমরা প্রায়ই বিবির পুকুর পাড়ের খাবার বিক্রেতাদের সর্তক করে থাকি। ভোক্তাদের অভিযোগ ছাড়াই ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর অভিযান পরিচালনা করতে পারে। আমাদের মনিটরিং চলছে।পথ খাবারের মান রক্ষায় সিটি করপোরেশনের কোনও অভিযান পরিচালনা হয় কিনা জানতে চাইলে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মতিন রহমান পরামর্শ দেন সিটি করপোরেশনের ভেটেনারী কর্মকর্তা ডা. রবিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগের।

ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি সড়কের পাশে দিনে দিনে অনেক খাবারের দোকান বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শিক্ষিতরা যেমন দোকান খুলছেন তেমনি নিম্নবিত্তরাও দোকান খুলে খাবার বিক্রি করছেন।ডা. রবিউল বলেন, করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে খাদ্যমান অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা বন্ধ ছিল। এখনও তা শুরু করা হয়নি। এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতি পুষিয়ে উঠলে আবার অভিযান শুরু হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

Check Also

টিসিবির নতুন চমক: চিনি-মসুর ডাল এখন ৫৫, তেল মাত্র ১০০

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর দাম ভোক্তাদের নাগালে রাখতে সাশ্রয়ী মূল্যে সারাদেশে চারটি পণ্য বিক্রি শুরু করেছে ট্রেডিং …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *