গির্জার যাজকসহ ৬৫ জন খ্রিস্টান ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে গির্জাকে মসজিদ রূপান্তর

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ- পূর্ব আফ্রিকার দেশ কেনিয়ার ‘গডস কল’ নামক গির্জার সাবেক যাজক ‘চার্লস ওকাওয়ানি’। সম্প্রতি তিনি ‘ওহিয়ে ইলাহি’ নামক গির্জায় প্রার্থনারত ৬৫ জন খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীসহ নিজে পবিত্র ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

‘ওহিয়ে ইলাহি’ নামক গির্জার স্থানে বর্তমানে নির্মাণ করেছেন একটি মসজিদ। জানা যায় ইসলাম গ্রহণের পূর্বে ওই স্থানে এক সঙ্গে প্রার্থনা করতেন তারা। আর তাই ইসলাম গ্রহণের পরও যেন একই স্থানে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারেন তাই নির্মাণ করেছেন মসজিদ কেনিয়ার পশ্চিম প্রদেশের খ্রিস্টান পাদ্রি চার্লস

ওকাওয়ানি দুই বছর আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং কর্মস্থান ‘ওহিয়ে এলাহি’ গির্জার স্থানে মসজিদ নির্মাণ করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন।-খবর ইন্টারন্যাশনাল কোরআন নিউজ এজেন্সির। জানা গেছে, ‘গড’স কল’ নামক চার্চের সাবেক পাদ্রি চার্লস ওকাওয়ানি নিজের নাম পরিবর্তন করে ইসমাইল ওকাওয়ানি রেখেছেন। তিনি কেনিয়ার কিসি শহরের মুসলিম আলেম ও পণ্ডিত মুস্তাফা সাউকেইকের কাছে কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম

ধর্ম গ্রহণ করেন। কেনিয়ায় অবস্থিত ইরানি কালচারাল সেন্টারের বরাতে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ‘ওহিয়ে এলাহি’ নামক গির্জায় খ্রিস্টানরা তাদের ইবাদত করতেন। কিন্তু বর্তমানে সব খ্রিস্টান পুণ্যার্থী (৬৩ জন) ইসলামধর্ম গ্রহণ করায় গির্জাটি মসজিদে পরিবর্তন করা হয়েছে। কেনিয়ার মুসলিম উম্মাহ কমিটির চেয়ারম্যান, কেইসুমু শহরের ‘কল ডেভেলপমেন্ট’ গ্রুপের

প্রতিনিধি এবং তুরস্কের খাইরাত আল-বারাকার ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি শায়খ খালফান খামিসের উপস্থিতে গির্জার স্থানে নবনির্মিত মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ইসমাইল ওকাওয়ানি বলেন, ‘বিশপ হিসাবে আমার মেয়াদকালে খ্রিস্টধর্মের বাণী প্রচারের জন্য কেনিয়ার মালিন্ডি, মুম্বাসা ও নাইরোবি এবং পার্শ্ববর্তী দেশ তানজানিয়ায় ভ্রমণ করেছি। তাই এসব এলাকায় বসবাসরত খ্রিস্টান ও মুসলমানদের সম্পর্কে অধ্যয়নের দারুণ

সুযোগ পেয়েছিলাম। এটি আমাকে এ সিদ্ধান্তে উপনীত করেছিল যে, ইসলামই সর্বোৎকৃষ্ট ধর্ম। আর এ কারণে আমি ইসলামধর্মের ছায়াতলে আশ্রয় নিয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমার আগের চার্চটি আগে নায়ালগোসি গড’স কল চার্চ নামে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন থেকে সেটি নায়ালগোসি জামে মসজি।
এছাড়াও আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে অধিক তথ্য জানতে এবং গবেষণা করতে পৃথিবীর যেকোনো স্থানে যেতে আমি রাজি। প্রয়োজনে দীর্ঘ সফর করে আমি ইসলাম ধর্মের জ্ঞান অর্জন করবো।

Leave a Reply

Your email address will not be published.