1. ataurrahmanlabib2017@gmail.com : News Live : News Live
  2. sawontheboss4@gmail.com : Toufiq Hassan : Toufiq Hassan
October 24, 2021, 12:13 pm
শিরোনাম
দুধের শিশুকে কোলে নিয়ে অডিশনে বিচারকদের মন জিতলেন মা, সারেগামাপার মঞ্চে এই প্রথম মাস্ক পরতে বলায় রাগ, ব্যাংক কর্মীকে দিয়ে নগদ ৫.৮ কোটি টাকা গোনালেন কোটিপতি টিভি পর্দায় আলিঙ্গনের দৃশ্য সম্প্রচার নিষিদ্ধ করল পাকিস্তান মৃত্যু হবে দুপুরে, তাই কাফন পরে কবরে বসেছিলেন ১০৯ বছরের বৃদ্ধ! ঢাকাসহ ৬ বিভাগে বৃষ্টির আভাস ইউটিউব দেখে কবিরাজি করতো তিনি, ফোনে নারীদের অশ্লীল ভিডিও ক্ষেত নিড়ানি, কৃষিকাজ-মাছ চাষে ব্যস্ত নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়ক নাঈম অন্তরঙ্গ মুহূর্তে প্রেমিকের জিহ্বা কেটে নিল প্রেমিকা বন্ধুর মেয়ে সারার সঙ্গে প্রেম করছেন অক্ষয়! কবে থেকে বাড়বে ক্লাসের সংখ্যা, বললেন শিক্ষামন্ত্রী

বাসর রাতে অভিমান – কষ্টের গল্প

রিপোর্টার
  • আপডেট টাইম Saturday, February 27, 2021
  • 399 Time View

বিডিটুডেস ডেস্ক: বাসর রাতে মারিয়াকে হাত দিয়ে ধরতে গেলাম হঠাৎ দেখি মারিয়া ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল। আমিও ভয় পেয়ে গেলাম। মারিয়া বারবার বলতে লাগল আমাকে হাত দিয়ে ছুবেন না। প্লিজ আমার শরীরে হাত দিবেন না। আমি আপনাকে ঘৃণা করি। মারিয়া বলল আমার খুব ভয় হচ্ছে। এইভাবে চিৎকার করে সারারাত পার করে দিল মারিয়া। রাতভর ভয়ে সে কাপতেছিল। আমার কাছে কি যেন একটা সে লুকাচ্ছিল। আমিও বুঝতে পারছিলাম না। আমার নাম মোঃ আশফাক। বাড়ী বরগুনা শহরে অবস্থিত। ছোট থেকে ঢাকায় বড় হয়েছি। আমার বাবা একজন সরকারী চাকুরিজীবী। আমি যখন ইন্টার ফাইনাল ইয়ারে পড়তাম তখন থেকেই একটা মেয়েকে আমার খুব ভালো লাগত। মেয়েটার নাম ছিল মারিয়া বিনতে ফারহান। মারিয়ার নামের মধ্যেই কেমন যেন একটা মায়া কাজ করত। মারিয়া নামটা যেমন সুন্দর ছিল ঠিক তেমনভাবে মারিয়াও দেখতে খুব সুন্দর ছিল। আমি যেদিন প্রথম মারিয়াকে দেখে ছিলাম সত্যিই তখন হারিয়ে গিয়েছিলাম কল্পনার জগতে। সেদিন মারিয়াকে নিল কালারের ড্রেসটায় খুব সুন্দর লাগছিল। বারবার ইচ্ছে করত মারিয়াকে দেখার। আমি কল্পনাতীত হয়ে গিয়েছিলাম সেদিন।

মারিয়ার বাড়ী হচ্ছে ময়মনসিংহে। মারিয়া ছোট থেকেই আলিয়া মাদরাসায় পড়েছে। মারিয়ার সাথে আমার পরিচয় ঢাকাতেই হয়। কোন এক সময় মারিয়া ঢাকায় বেড়াতে আসে। মারিয়ার খালার বাসা ছিল ঢাকায়। মারিয়ার খালার বাসা এবং আমাদের বাসা একই গলিতে ছিল। মারিয়ার খালার সাথে আমার আগে থেকেই পরিচয় ছিল কারণ মারিয়ার কাজিন এবং আমি এক সাথেই স্কুলে পড়েছিলাম। মারিয়া এবং তার মা যখন ঢাকা থেকে বাড়ী ফিরে যাচ্ছিল তখন আমি তাদের আড়ালে মহাখালী বাস স্টেশন পর্যন্ত গিয়েছিলাম। সেদিন শুধু মাত্র মারিয়াই আমাকে দেখেছিল। আসলে মারিয়াও কিছুটা বুঝতে পেরেছিল যে আমার তাকে ভালো লাগতে শুরু করেছে। অবশেষে মারিয়া এবং তার মা বাড়ীতে চলে যাই। এবং আমি ঢাকাতেই রয়ে যাই। এইভাবে কেটে যাই দীর্ঘ তিন মাস। মারিয়ার সাথে যোগাযোগ করার কোন মাধ্যম খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এক সময় ভেবে ছিলাম যে মারিয়াদের বাড়ীতে চলে যাব কিন্তু আমি তো তাদের বাড়ী চিনতাম না বা চিনলেই কি হবে আমি তো তাদের কোন রিলেটিভও না। আসলে মারিয়ার বিচ্ছেদ আমাকে খুবি অতিষ্ট করে তুলছিল। আমি বারংবার তাকে দেখার জন্যে বা কথা বলার জন্যে ছটফট করছিলাম। অবশেষে চিন্তা করলাম মারিয়ার সাথে ফোনে কন্টাক করব এবং খুব কষ্ট করে ওর কাজিন থেকে মারিয়ার কন্টাক নাম্বার নিলাম। এবং দীর্ঘদিন পর মারিয়ার সাথে আমার ফোন কথা হয়। প্রথম যেদিন মারিয়ার সাথে ফোনে কথা বলি সেদিন অনেক হেপ্পি ছিলাম আমি।

আরো পড়ুন: এক শিক্ষক ও ছাত্রের কথোপকথন – অস্থির হাসির জোকস
এমন কি আমি পার্টিও দিয়েছিলাম ফ্রেন্ডদেরকে নিয়ে। মনে হচ্ছিল যে আজকে আমি চাঁদকে খুব কাছে থেকে দেখেছি। এইভাবে শুরু হয় আমার আর মারিয়ার মাঝে ভালো লাগা আর ভালোবাসা। আস্তে আস্তে আমরা একে অপরকে বুঝতে শিখি এবং কেয়ার করতে থাকি। প্রথম থেকেই আমি বেশি ভালোবাসতাম মারিয়াকে । সেও আমাকে ভালোবাসত তবে একটু কম। সে আমাকে প্রায় সময় বলত যে আমি নাকি তাকে কোনদিনি বিয়ে করব না। আমি নাকি তাকে ছেড়ে চলে যাব। অথচ এমনটা আমি কোনদিন কল্পনা করতে পারতাম না। সত্যিই মারিয়াকে জীবনের সব থেকে বেশি ভালোবাসতাম। মারিয়ার সাথে আমি দীর্ঘ ছয়টা বছর প্রেম করি। এর মধ্যে কয়েকবার তাদের বাড়ীতে যাওয়া হয়। তার কলেজে গিয়ে দেখা করতাম আমি। মাঝে মধ্যে ঢাকা থেকে যেতাম তার সাথে দেখা করার জন্যে। আবার কোন সময় বরগুনা থেকেও কষ্ট করে যেতাম। আসলে মানুষ যখন কার প্রেমে পরে বা কার সাথে রিলিশন করে তখন তার কাছে এইগুলা কোন কষ্টই মনে হয় না। এত দূর কষ্ট করে আমি যখন তার সাথে দেখা করতে যেতাম তখন সে আমাকে মাত্র 30 বা 20 মিনিট সময় দিত। খু-উ-ব অল্প সময় সে আমার সাথে সরাসরি কথা বলত। সে বলত যে, কেউ দেখে ফেললে নাকি তার প্রবলেম হবে। আসলে প্রবলেম হওয়াটাই যুক্তিসম্মত ছিল। যাই হোক অবশেষে আমি চিন্তা করলাম যে আমাদের রিলিশনের ব্যাপারটা বাড়ীতে জানাব। মারিয়ার ব্যাপারটা বাড়ীতে মার কাছে এবং বোনের কাছে বললাম। বাবার কাছে বলার সাহস পেলাম না। আমার পরিবারের সবাই রাজী হল যে তারা মারিয়াকে দেখতে যাবে। কিন্তু মারিয়া বলছিল যে, সে নাকি আর পরে বিয়ে করতে চাই। তার নাকি আর পড়াশোনা করার ইচ্ছে আছে। আমি তাকে বললাম যে বিয়ের পরে আমি তোমাকে পড়াব। সে এতে রাজী হল আবার রাজীও ছিল না। আমিও বুঝতে পারছিলাম নে যে সে কি করতে চাচ্ছে বা আমাকে কি বলতে চাই। তার কি অন্য কোন মতলব আছে? সে কি আমায় বিয়ে করতে চাচ্ছে না? ইত্যাদি প্রশ্ন নিজেই নিজেকে করছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ অবশেষে আমার পরিবার মারিয়াদের বাড়ীতে যাই মারিয়াকে দেখতে। এবং তাদের মারিয়াকে খুব পছন্দ হয়।

এবং মারিয়ার পরিবারও আমাকে পছন্দে করে। কিন্তু মারিয়া আমাকে কেন যেন ইগনোর করছিল। সে আমাকে বিয়ে করতে চাচ্ছিল না। আবার মাঝে মধ্যে বলত যে বিয়ের পর নাকি সব ঠিক হয়ে যাবে। আমি ব্যাপারটা বুঝতে পারছিলাম না। যাই হোক অবশেষে আল্লাহর মেহেরবানীতে আমাদের বিয়ের তারিখ ঠিক হল এবং বিয়েটা খুব ভালো ভাবেই সম্পন্ন হয়। যেদিন মারিয়া বউ সেজে আমার ঘরে আসছিল সেদিন মারিয়াকে বিয়ের লাল শাড়ীতে অনেক সুন্দর লাগছিল। আমি কল্পনাই করতে পারছিলাম না তার সাথে আমার বিয়ে হবে। আমার কাছে মনে হচ্ছিল যে আকাশের চাঁদটা আজকে আমার কাছে ধরা দিয়েছে। আমি নিজেকে খুব হেপ্পি মনে করছিলাম। আমি ভাবছিলাম মারিয়াকে নিয়ে আজীবন আমি সুখে থাকব। আমি মারিয়াকে কষ্ট কি সেটা কখনোই বুঝতেই দিব না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালার কেরামতি কেউ বুঝতে পারে না। কার বুঝার সাধ্য নেই আল্লাহ তায়ালা কার কপালে কি ধার্য করে রেখেছেন। আল্লাহ তায়ালা আমাকে এত বড় শাস্তি দিবেন সেটা কল্পনাও করতে পারিনি কোনদিন। মারিয়া আমার সাথে এমনটা করবে সেটা আমি মানতেই পারছিলাম না। নিজেকে খুবি ধিক্কার দিচ্ছিলাম। তখন নিজেকে খুবি অপরাধী মনে হচ্ছিল। মারিয়া বউ সেজে আমার সামনে বসা। আজকে আমাদের বিয়ের প্রথম রাত। আজকে আমাদের বাসর রাত। আজকে আমার আর মারিয়ার মিলন মেলা। আজকের রাতটা হচ্ছে স্বামী স্ত্রীর জীবনের সব চেয়ে শ্রেষ্ঠ রাত। আজকের রাতটার জন্যে কত মানুষ কত ধরনের স্বপ্ন দেখে থাকে। সত্যিই ঐ মুহুর্তে মারিয়াকে চাঁদের চেয়েও বেশি সুন্দর লাগছিল। বাস্তবিক পক্ষে বাসর রাতে প্রত্যেকটা মেয়েকেই খুব সুন্দর লাগে। কিন্তু আমার কাছে সেই বাসর রাতটাকে খুবি বিষাক্ত মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল যে এই রাতটা কেন আসল আমার লাইফে। বাসর রাতটা আসার পূর্বে কেন আমার মরণ হল না।

আমি ভাবতেও পারিনি আমার সাথে এমনটা হবে। বাসর রাতে মারিয়াকে একটু হাত দিয়ে ধরতে গেলাম হঠাৎ দেখি মারিয়া ভয়ে চিৎকার দিয়ে উঠল। আমিও ভয় পেয়ে গেলাম। মারিয়া বারবার বলতে লাগল আমাকে হাত দিয়ে ছুবেন না। প্লিজ আমার শরীরে হাত দিবেন না। আমি আপনাকে ঘৃণা করি। মারিয়া বলল আমার খুব ভয় হচ্ছে। এইভাবে চিৎকার করে সারারাত পার করে দিল মারিয়া। রাতভর ভয়ে সে কাপতেছিল। আমার কাছে কি যেন একটা সে লুকাচ্ছিল। আমিও বুঝতে পারছিলাম না। বিয়ের দ্বিতীয় দিন। আমি বর সাজে মারিয়াকে নিয়ে তার বাপের বাড়ীতে গেলাম। আমার শশুড় বাড়ীটা দেখতে অত্যন্ত সুন্দর। শশুড় বাড়ী যাওয়ার কিছুক্ষণ পর শশুড় আমাকে নিজের রুমে ঢাকলেন। মারিয়া অন্য রুমে ছিল। আমি রুমে যাওয়ার পর শশুড় আমার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন। আমি ভয় পেয়ে গেলাম। পরোক্ষণে তিনি আমাকে বললেন “তোমার ভিতরে শারীরিক প্রবলেম আছে সেটা তুমি আমাদের কাছে কেন শেয়ার কর নি? তোমার ভিতরে যৌনক্ষমতা নেই সেটা তুমি আমাদের বলতে পারতে। তুমি আমাদের মেয়ের জীবনটা কেন নষ্ট করলে?। আমি তখন হতভম্ব হয়ে শশুড়ের দিকে তাকিয়ে ছিলাম। তখন আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমি শশুড়কে বিষয়টা বুঝানোর অনেক চেষ্টা করলাম। আমি বললাম আমার ভিতরে এই রকম কোন প্রবলেম নেই। আপনারা এইগুলা কি বলছেন?। আমার কাছে বিষয়টাকে হাস্যকর মনে হল। এই বিষয়টা মূলত মারিয়াই বানিয়ে বলেছে। সে এমনটা কেন করল আমি জানিনা। হঠাৎ বাহির থেকে কতগুলা ছেলে শশুড়ের রুমে আসল। হতে পারে মারিয়ার কাজিন বা অন্য কোন ভাড়াটে গুন্ডা হবে। আসার সাথে সাথেই তারা আমার উপর আক্রমণ করে বসল। তারা আমাকে অনেক মারধর করল।

আমি বেহুশ হয়ে গিয়েছিলাম। আমি তখন শুধু তাদের একটা কথায় শুনতে পারছিলাম। তারা বারবার বলছিল আমি কেন মারিয়ার জীবনটা নষ্ট করলাম। আমি হসপিটালে ভর্তি ছিলাম তিনদিন। এই তিনদিনে কি হয়েছে আমি নিজেও জানি না। আমি বাস্তবিক পক্ষে কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। আমি শুধু নিজেকে এমন প্রশ্ন করছিলাম যে মারিয়া আমার সাথে এমনটা কেন করল?। আমি তো তার কোন ক্ষতি করিনি। আমি তো তাকে শুধু নিজের জীবনের চেয়েও ভালোবেসে ছিলাম। তাহলে কি মারিয়ার অন্য কার সাথে কোন রিলিশন আছে? না এমনটা হতে পারে না। যদি তার অন্য কার সাথে রিলিশন থাকত তাহলে সে অন্তত আমার কাছে শেয়ার করত। এই সমস্ত ভিবিন্ন কথা আমার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। হসপিটাল থেকে বাড়ী আসলাম এক সাপ্তাহ হবে। বাড়ীর সবাই আমাকে অবিশ্বাস করতে লাগল। আমি নাকি ধজভঙ্গ। এমন কথাও অনেকে বলতে লাগল। আমার নাকি যৌনক্ষমতা নেই। আমি নাকি সহবাসে সক্ষম নই। এমন কথা শুনার পর নিজের কাছে বিষয়টা হাস্যকর মনে হল। আসেল সমাজের মানুষ একজন মেয়ে বা মহিলার কথা এই সমস্ত ব্যাপারে বেশি বিশ্বাস করে। যাই হোক অবশেষে আমি বাবা-মার কাছে বিষয়টা শেয়ার করলাম। বাসর রাতে কি হয়েছিল শেটাও শেয়ার করলাম । বাবা চাচ্ছিল যে আমাকে ডাক্তার কাছে নিয়ে চেকাপ করাবে। আসলেই আমার ভিতরে এমন কোন সমস্যা আছে কিনা সেটা জানার জন্যে। বাবা মারিয়ার পরিবারে কাছে চেকাপের বিষয়টা জানালো। মারিয়ার পরিবারও রাজী হল চেকাপ করার জন্যে। আমিও রাজী হলাম। এর ভিতরে মারিয়ার সাথে আমার কোন কন্টাক হয় নি। সে আমার সাথে কথা বলতে রাজী ছিল না।

কয়েকবার কল করেছিলাম কেটে দিল। অবশেষে চেকাপের পর ডাক্তারের রিপোর্ট হাতে আসল। ডাক্তার একদম পরিস্কার ভাষায় বলে দিলেন ছেলের ভিতরে এই রকম কোন প্রবলেম নেই। আমি একজন সুস্থশীল মানুষ। সবাই ডাক্তারের কথা শুনে হতভম্ব হয়ে গেল। ডাক্তারের রিপোর্ট তো আর মিথ্যা বলবে না। তাহলে এত কিছুর পিছনে কার হাত ছিল? মারিয়া আমার সাথে এমনটা কেন করলেন? মারিয়ার পরিবারও আমার কাছে একদম চুপ হয়ে গেল। তারা আমাকে বলতে লাগল যাতে আমি তাদের মেয়েকে ক্ষমা করে দেই। হ্যা আমি তো ক্ষমা করি দিব কিন্তু ক্ষমার করার মধ্যেই কি সব কিছুর সমাধান ? শনিবার সকাল বেলা। ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করলাম। হঠাৎ মারিয়া আমার নাম্বারে ফোন দিল। কেমন আছি সেটা না জেনে একদম সরাসরি বলতে লাগল আমি যাতে তাকে ডিভোর্স দিয়ে দেই। সে নাকি অন্য একটা ছেলেকে ভালোবাসে। সেই ছেলেটা নাকি বিদেশে প্রবাসে ছিল। সে গত সোমবার দেশে ফিরে এসেছে। সে নাকি তাকে বিয়ে করতে চাই। তাকে পাওয়ার জন্যে সে নাকি আমার সাথে এমন নাটক করেছে। কথাগুলা শুনার পর চোখের অশ্রুধারা আর ধরে রাখতে পারলাম না। আমি হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেছিলাম। পাশ থেকে বাবা বলে উঠল “তোর কি হয়েছে? এমনভাবে কাঁদছিস কেন? সত্যিই তখন আসমানটা ভেঙ্গে পরল আমার মাথার উপর। যার জন্যে দীর্ঘ ছয়টা বছর কষ্ট করলাম। যার পিছনে দীর্ঘ ছয়টা বছর ঘুরলাম। যার জন্যে নিজের স্বপ্নকে ভেঙ্গে চুরমার করে দিলাম।

যার জন্যে নিজের ফিউচারকে বরবাদ করে দিলাম। যার সাথে দীর্ঘ ছয়টা বছর প্রেম করলাম। সে আজকে এমন কথা বলতেছে। সত্যিই আমি আজকে একটা জীবন্ত লাশ হয়ে গেলাম। আমি কল্পনাই করতে পারছিলাম না যে মারিয়া আমার সাথে এমন নাটক করতে পারবে। মারিয়া তুমি আমার সাথে এমনটা কেন করলে? তুমি আমাকে মিছেমিছে স্বপ্ন কেন দেখালে ? তুমি সমাজের মানুষের কাছে আমাকে কেন মার খাওয়ালে? আমাকে সমাজের মানুষের সামনে কেন অপমান করলে? তুমি যদি আমাকে ভালো নাই বাসতে বলে দিলেই পারতে। বিয়ে করার জন্যে আমি তো তোমাকে বাধ্য করি নি। এমন হাজারও প্রশ্ন মারিয়াকে করেছিলাম। তার কোন উত্তর ছিল না। সে শুধু বলেছিল “সরি তোমাকে এতটা কষ্ট দেওয়ার জন্যে” বাহ ! সামান্য একটা সরি বললেই সব মিটে যাবে? সত্যিই মেয়েরা এমন হয়। মেয়েরা নিজেদেরকে খুবি অহংকারী মনে করে। নামধারী কতগুলা মেয়ের জন্যে আজকে সমাজে এত কোলাহল। ছেলেরাও কতটা বোকা টাইপের হয়। এত কষ্ট আর লাঞ্ছনা থাকার পরও একটা মেয়েকে অনেকটা ভালোবেসে যায়। বিডিটুডেস/আরএ/১৯ অক্টোবর, ২০১৮

শেয়ার করুন...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এছাড়া আরো সংবাদ
2020সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | নিউজলাইভ 24.কম সংবিধান ও জনমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাই ধর্ম ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং উষ্কানীমূলক কোনো বক্তব্য না করার জন্য পাঠকদের অনুরোধ করা হলো। কর্তৃপক্ষ যেকোনো ধরণের আপত্তিকর মন্তব্য মডারেশনের ক্ষমতা রাখেন
উন্নয়নেঃ সাইট পুল