Breaking News

বাংলাদেশের যে মসজিদে ২৪ ঘণ্টা কুরআন তিলাওয়াত হয়

ইসলামী ঐতিহ্য ও কালের সাক্ষী হয়ে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের ধারক ও বাহক টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী নওয়াব শাহি জামে মসজিদ। এটি টা’ঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার প্রাণ’কেন্দ্র পৌ’রসভায় অবস্থিত। মসজিদটির প্রথম খণ্ড নির্মাণ করেন তুর্কি বং’শোদ্ভূত ইসপিঞ্জার খাঁ ও মনোয়ার খাঁ নামের দুই সহোদর।পরবর্তী সময়ে মসজিদটির সম্প্রসারণের কাজ করেন বাংলা ভাষার প্রথম প্রস্তাবক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, যুক্ত বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী, ধনবাড়ীর বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব নবাব সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী।আজ থেকে ১১৫ বছর আগে মসজিদটির সম্প্র’সারণের মাধ্যমে আধুনিক রূপ দেন তিনি। প্রায় ১০ কাঠা জমির ওপর বানানো এই মসজিদ সং’স্কারের আগে ছিল আ’য়তাকার।

তখন এর দৈর্ঘ্য ছিল ১৩.৭২ মিটার (৪৫ ফুট) এবং প্রস্থ ছিল ৪.৫৭ মিটার (১৫ ফুট)।বর্তমানে এটি একটি বর্গাকৃতির মসজিদ এবং সাধারণ তিন গম্বুজবিশিষ্ট আয়তাকার মোগল মস’জিদের সঙ্গে বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। সংস্কারের পর মসজিদের প্রাচীনত্ব কিছুটা লোপ পেলেও এর চাকচিক্য ও সৌন্দর্য অনেক বেড়েছে। দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের ভেতরের দেয়ালে ব্যবহার করা হয়েছে কড়িপাথরের লতা-পাতা আঁকা অ’সংখ্য রঙিন নকশা ও কড়িপাথরের মোজাইক, যা প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন বহন করছে।

বাইরের দেয়ালে ব্যবহার করা হয়েছে সিমেন্ট আর কড়িপাথরের টেরাকোটা নকশা। মসজিদে প্রবেশ করার জন্য বানানো হয়েছে পাঁচটি প্রবে’শপথ। পূর্ব দিকে বহু খাঁজবিশিষ্ট খিলানযুক্ত তিনটি আর উত্তর ও দক্ষিণে আরো একটি করে দুটি—সর্বমোট পাঁচটি।৩৪টি ছোট ও বড় গম্বুজ মসজিদটিকে করেছে আরো নান্দনিক। আরো আছে ১০টি বড় মিনার। প্রতিটির ‘উচ্চতা ছাদ থেকে প্রায় ৩০ ফুট। মসজিদের দো’তলার মিনারটির উচ্চতা প্রায় ১৫ ফুট। মিনারের ওপর লাগানো তামার চাঁদগুলো মসজিদের

সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।মসজিদের ভেতরটা অলংকৃত করেছে মোগল আ’মলের তিনটি ঝাড়বাতি। শোভা পাচ্ছে সংর’ক্ষিত ১৮টি হাঁড়িবাতি, যা নারকেল ব্যবহার করে জ্বালানো হতো। সুপ্রাচীন মসজিদটিতে একসঙ্গে ২০০ মুসল্লি না’মাজ আদায় করতে পারে।মসজিদের পাশেই রয়েছে শান-বাঁধানো ঘাট ও কবরস্থান। এখানে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছেন নবাব বাহাদুর সৈয়দ নওয়াব আলী চৌধুরী। ১৯২৯ সালের ১৭ এপ্রিল তিনি ইন্তেকাল করেন। ‘মৃ’ত্যু’র দুই বছর আগে তিনি এই মসজিদে চালু করেন ২৪

ঘণ্টা কোরআন তিলাওয়াতের ব্যবস্থা (নামাজের সময় বাদে), যা গত প্রায় এক শ বছরে এক দিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। নিরব’চ্ছিন্ন তিলাওয়াত সচল রাখতে নিয়োজিত আছেন পাঁচজন হাফে’জ, যা প্রতিদিন মসজিদে আসা মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের অভিভূত করে। এককথায় প্রাচীন আমলের মানুষের ইবাদত-বন্দেগি ও ই’সলামী ঐতিহ্যের স্মৃতিচিহ্ন ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে ধনবাড়ী শাহি মসজিদ।

Check Also

ধর্ম যার যার উৎসবও তার তার : সুজানা জাফর

একসময়ের জনপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী সুজানা জাফর তার ভেরিফাইড ফেসবুকে লিখেছেন, অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা জানানো, অংশগ্রহণ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *