সিইসির পদত্যাগ দাবিতে আ. লীগ নেতাকর্মীদের বিক্ষো.ভ

গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে ভোট বন্ধের প্রতিবাদে দুই উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) সকালে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নৌকা মার্কার প্রার্থী মাহমুদু হাসান রিপনের পক্ষের নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। পরে ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তা অবরোধ করে টায়ার জালিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা। এ সময় ঘণ্টাব্যাপী ফুলছড়ি গাইবান্ধা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় সাধারণ মানুষকে।

বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের এমন হঠকারী সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান। অবিলম্বে স্থগিত হওয়া ৫৩টি কেন্দ্র বাদ দিয়ে বাকি কেন্দ্রগুলোর ফলাফল প্রকাশের দাবি জানান।সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে স্থগিত হওয়া ভোট কেন্দ্রগুলো বাদ দিয়ে বাকি ভোট কেন্দ্রগুলোর ফলাফল ঘোষণা করে বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণার জোর দাবি জানান। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের জোর দাবি করেন।

বুধবার ভোট বন্ধের সিদ্ধান্তের পরপরই ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার বেশ কিছু স্থানে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়েও প্রতিবাদ করেন নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা।এর আগে, ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে গাইবান্ধা-৫ আসনের উপনির্বাচনে ভোট গ্রহণ বন্ধ ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। বুধবার (১২ অক্টোবর) বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে এ ঘোষণা দেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে, ভোট গ্রহণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। কোনো একটি পক্ষ বা কোনো একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রভাবিত করতে পারছেন। ফলে, আমাদের দৃষ্টিতে মনে হয়েছে, ভোট গ্রহণ নিরপেক্ষ হচ্ছে না।’নির্বাচন কমিশন কার্যালয় থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে গাইবান্ধা-৫ আসনের ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে কমিশন।

সকাল থেকে উপজেলার ৮৮টি এবং ফুলছড়ি উপজেলার ৫৭টিসহ ১৪৫টি কেন্দ্রে ৯৫২টি বুথে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। এবারই প্রথম ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে আসনটিতে ভোট দেয় ভোটাররা। এক হাজার ২৪২টি সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় ছিল সব ভোটকেন্দ্র। সেখানে অনিয়মের ঘটনা দেখার পর বেলা ১২টা পর্যন্ত কয়েক দফায় মোট ৪৪টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়।

আসনটিতে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলেন। তারা হলেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে মাহমুদ হাসান রিপন, জাতীয় পার্টির এ এইচ এম গোলাম শহীদ রনজু (লাঙল), বিকল্পধারা বাংলাদেশের জাহাঙ্গীর আলম (কুলা), স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ (আপেল) ও সৈয়দ মাহবুবুর রহমান (ট্রাক)। তাদের মধ্যে মাহমুদ হাসান রিপন ছাড়া সবাই ভোট বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন।

গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। এর দুই দিন পর তার সংসদীয় আসন গাইবান্ধা-৫ শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।