সন্তান ফিরে পেতে ৯ বছরের চেষ্টা মায়ের

নিজের চুরি যাওয়া সন্তান ফিরে পেতে দীর্ঘ ৯ বছর যাবৎ বিভিন্ন ধরনের চেষ্টার পর আদালতের শরনাপন্ন হয়েও সন্তান ফিরে না পেয়ে এক অসহায় মায়ের সংবাদ সম্মেলন। এ ঘটনায় সোমবার (৩ অক্টোবর) বিকালে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার শালকু গাড়ি গ্রামের হেলাল উদ্দিনের স্ত্রী তাজমিনা বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে তাজমিনা বলেন, ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই তিনি সন্তান প্রসবের জন্য বগুড়া শহরের নূরানী মোড়স্থ আইভি ক্লিনিকে ভর্তি হন। সেখানে সিজারের মাধ্যমে তার জমজ একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান ভূমিষ্ট হয়, যা তিনি মেডিকেল চেকআপের মাধ্যমে আগেই নিশ্চিত হন। এমনকি অপারেশন থিয়েটারে তিনি অজ্ঞান অবস্থায় থাকলেও দুই সন্তানেরই কান্নার আওয়াজ শুনতে পান। পরে তিনি জ্ঞান ফিরে শুধুমাত্র তার মেয়ে সন্তানকে দেখতে পান।

এরপরে তার আহাজারি ও কান্না শুনে তার মাসহ আত্মীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাবতলী উপজেলার মৃত দুদু সরদারের ছেলে আনোয়ার হোসেন ও আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী চায়না বেগম ডাক্তার ও নার্সদের সঙ্গে যোগসাজস করে টাকার বিনিময়ে তার ছেলেকে চুরি করে নিয়ে

গেছে। সন্তান চুরির তিন মাস পর তারা তাদের বাড়িতে আসে এবং দাবি করেন তারা সন্তানটি ঢাকা থেকে কিনে এনেছে আবার বলে দত্তক নিয়েছেসহ নানান কথা। তাদের কথায় সন্দেহ হলে ২০১৮ সালের ২০ জুলাই নেপালতলী ইউনিয়ন পরিষদের অফিস সহকারী চঞ্চল কুমরাকে নিয়ে তাদের বাড়িতে গেলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তাজমিনা।

পরে তিনি নেপাতলী ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। চেয়ারম্যান বিষয়টি নিয়ে মীমংসা করতে ব্যর্থ হলে তিনি সাতজনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত চেয়ারম্যানকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দিলে চেয়ারম্যান আদালতে প্রতিবেদন দিলে আদালত ওই সাতজনের নামে সমন জারি করেন। আসামিরা জামিন পেয়ে ডিএনএ পরীক্ষার কথা বলে। ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ আসলে তিনি তাতে নারাজি হয়ে আবারও পরীক্ষার জন্য ঢাকায় গিয়ে দেখতে পান তার রিপোর্ট পজিটিভ।

সন্তান হারানো এই মা দাবি করেন, তিন বছর আগে তার ডিএনএ রিপোর্ট পজিটিভ হওয়া সত্ত্বেও তার হারানো সন্তানকে তার কাছে ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হয়ে বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরে তা প্রধানমন্ত্রীসহ সবার নজরে নিয়ে এসে তার চুরি যাওয়া সন্তান ফিরিয়ে দেওয়ার আকুতি জানান।