‘মোবাইলে গেমস খেলবে না’ চাচার কাছে ৬ বছরের শিশুর অঙ্গীকার

‘মোবাইলে আর কখনো গেমস খেলবে না’ বলে এমন অঙ্গীকার করেছে মো. রাহাত বিন কাইফ নামে ছয় বছরের একটি শিশু।দাবি অনুযায়ী, চাচা রাজু রায়হান ব্যাডমিন্টন খেলার র‌্যাকেট ও দুইটি কর্ক (ফড়িয়া) কিনে দেওয়ার পরই একশো টাকার স্ট্যাম্পে এমন চুক্তিনামায় সই করেছে ওই শিশু।

শনিবার (২২ অক্টোবর) ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর এলাকার দাবাড়িয়া মহল্লায়। রাহাত দাবাড়িয়া মহল্লার জুয়েল রানা রকুর ছেলে ও ঢাকার একটি স্কুলের শিশু শ্রেণীর ছাত্র। এদিকে এ চুক্তিনামার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। আজ বিকেল থেকেই বিভিন্ন ব্যক্তি তার ফেসবুকে ও বিভিন্ন গ্রুপে চাচা-ভাতিজার এই চুক্তিনামার ছবিসহ স্ট্যাটাস দিচ্ছে।

চুক্তিনামায় রাহাত উল্লেখ করেছে, সে তার চাচা রাজু রায়হানের স্মার্টফোন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গেমস খেলে তাকে বিরক্ত করে আসছে। কিছুদিন আগে সে তার চাচাকে প্রস্তাব দেয় ব্যাডমিন্টন খেলার র‌্যাকেট ও দুটি কর্ক কিনে দিলে আর স্মার্টফোনে গেম খেলবে না। অবশেষে দাবি করা খেলার সরঞ্জাম বুঝে পেয়ে চাচার স্মার্টফোনে গেম খেলবে না মর্মে অঙ্গীকার নামায় সই করে রাহাত।

ভবিষ্যতে যদি সে স্মার্টফোনে গেম খেললে চাচা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এমনকি পুলিশে দিতে পারবে বলে অঙ্গীকারনামায় উল্লেখ করা হয়। উল্লেখিত অঙ্গীকারনামায় সাক্ষী হিসেবে চারজনের সই নেওয়া হয়েছে।

শিশুটির চাচা রাজু রায়হান বলেন, ভাতিজা রাহাতের বয়স ৬ বছর হলেও সে স্মার্টফোনে প্রচুর গেমস খেলে। রাহাতের দাবি ছিল, একটি র‌্যাকেট ও দুটি কর্ক। আমি সেগুলো কিনে দিয়েছি এবং তাকে ভয় দেখানোর জন্য একশো টাকার স্ট্যাম্প কালার ফটোকপি করে তাতে একটি অঙ্গীকারনামা করা হয়েছে। এটি করার ফলে সে ভয় পেয়ে এখন পর্যন্তও স্মার্টফোন স্পর্শ করেনি।

শিশুটির বাবা জুয়েল রানা রকু বলেন, তিনি ঢাকার একটি ফ্যাশন হাউজে অ্যাকাউন্ট সেকশনে চাকরি করেন এবং পরিবারসহ ঢাকায় থাকেন। তার ছোট ভাই রাজু রায়হানের শাহজাদপুরে কম্পিউটারের দোকান রয়েছে। রাহাত কিছুদিন ধরে তার মায়ের সঙ্গে শাহজাদপুরে অবস্থান করছে। ওদের চাচা-ভাতিজার মধ্যে দারুণ সম্পর্ক। আর এ কারণেই মজা করে এমন অঙ্গীকারনামা করেছে।