‘বিশ্বকাপ ফুটবলের ২ স্টেডিয়াম নির্মাণে জড়িয়ে পড়াটা স্বপ্নের মতো’

আজ রাতে মাঠে গড়িয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল। বর্ণিল আয়োজনে কাতারে পর্দা উঠেছে ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’-এর। এই আয়োজনে পর্দার আড়ালে অনেক প্রবাসী শ্রমিকের রয়েছে রক্ত ও ঘাম। তেমনই একজন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার মাসুদ রানা। বিশ্বকাপের খেলা আয়োজনে প্রস্তুত দুটি স্টেডিয়ামের নির্মাণে জড়িত ছিলেন প্রবাসী এই বাংলাদেশি শ্রমিক।

কাতার বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম ভেন্যু ‘লুসাইল’ এবং ‘আল জানিয়্যুব’ স্টেডিয়াম। এবারের আসরে ‘লুসাইল’ স্টেডিয়ামে ফাইনাল ম্যাচসহ মোট ১০টি খেলা হবে। স্টেডিয়ামে ৮০ হাজার দর্শক বসে খেলা দেখার ব্যবস্থা রয়েছে। অপরদিকে ‘আল জানিয়্যুব’ স্টেডিয়ামে মোট সাতটি ম্যাচ হবে। নৌকার অনুকরণে তৈরি হয়েছে এই স্টেডিয়াম। এই দুই স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজে সরাসরি জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে যাওয়া ও নিয়ে আসার দায়িত্ব ছিল মাসুদ রানার।

মাসুদ রানা ঘোড়াঘাট উপজেলার ভাতছালা গ্রামের আব্দুর রহমান সরকারের ছোট ছেলে। ১৯৯৪ সালে ঘোড়াঘাট ডিগ্রি কলেজ থেকে স্মাতক শেষ করে দুবাই যান মাসুদ। সেখানে আন্তর্জাতিক মানের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রাপ্ত হয়ে দেশে ফিরে আসেন। ২০১২ সালে পাড়ি জমান কাতারে। ২০১৯ সালে কাতার বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নির্মাণ কাজে যোগ দেন মাসুদ। সে সময় স্টেডিয়াম দুটির পাইলিংয়ের কাজ চলছিল। তিনি কর্মচারী-কর্মকর্তাদেরকে আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহারিত গাড়ির প্রধান চালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

মাসুদ রানা জানান, তিনি কাতারের হামাদ বিন খালিদ (এইচবিকে) কোম্পানিতে চাকরি করেন। ‘লুসাইল’ ও ‘আল জানিয়্যুব’ স্টেডিয়ামটিতে ট্রাভেল এজেন্সি হিসেবে দায়িত্ব পায় কাতারের ওই কোম্পানিটি। এই কোম্পানির প্রধান চালক ছিলেন মাসুদ রানা। কিছুদিন আগে ছুটিতে দেশে এসেছেন মাসুদ রানা। স্টেডিয়াম নির্মাণের নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে।

মাসুদ রানা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, বিশ্বকাপের স্টেডিয়াম নির্মাণকাজে জড়িয়ে পড়াটা স্বপ্নের মতো। দুটি স্টেডিয়াম নির্মাণের অনেক স্মৃতি আমার মনে আজীবন গেঁথে থাকবে। বিশাল একটা বিশ্ব ইভেন্টে কাজ করতে পারাটাও অনেক গর্বের বিষয়। কত বড় বড় তারকারা খেলবেন এই মাঠে, এটা ভেবেই ভালো লাগছে। একজন বাংলাদেশি হিসেবে এই আয়োজনে আমার হাতেরও ছোঁয়া আছে, এটা ভেবেই ভালো লাগে।