বিয়ের তিন দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল প্রবাসীর

হাতের মেহেদির রং এখনো গাঢ়, মুছে যায়নি। নববধূর সঙ্গে কেটেছে মাত্র তিন দিন। এরই মধ্যে নতুন বাইক কেড়ে নিল সব স্বপ্ন। আচমকা এক ঝড়ে ভেঙে চুরমার করে দিল নবদম্পতির সংসার।

মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলেন নতুন বর প্রবাসী কিরণ। এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না। শোকে পাথর হয়েছে দুটি পরিবার।
শুক্রবার (২৫ নভেম্বর) ভোরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিহতের মরদেহ নিজ বাড়িতে এলে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশের পরিবেশ। নির্বাক নববধূ ও তার পরিবারের লোকজন। বিয়ে হতে না হতেই বিদায় নিল স্বামী। এমন পরিস্থিতিতে চোখের জলে ভাসছে সবাই।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকালে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার সৈয়দগাঁও গ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন কিরণ। পরে রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। কিরণ (৩২) ওই গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে।

এলাকাবাসী জানায়, দুবাইপ্রবাসী কিরণ ১৫ দিন আগে বাড়ি আসেন। বাড়ি এসে তিনি একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনেন। গত রবিবার (২০ নভেম্বর) তিনি উপজেলার চরদেওকান্দি গ্রামে বিয়ে করেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাতটার দিকে তিনি নতুন বাইকটি নিয়ে ঘুরতে বের হন।

বাইকটি নিয়ে তিনি পাকুন্দিয়া-মঠখোলা পাকা সড়ক দিয়ে সৈয়দগাঁও বড় মসজিদের সামনের মোড়ে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান কিরণ। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে

নেওয়া হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে তিনি মারা যান। পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাহিদ হাসান সুমন বলেন, ‘শুনেছি গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বাইক দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। ‘