বাবা ও মাকে হারানোর শোক নিয়ে পরীক্ষা দিল তারা

দু’জনের সীমাহীন কষ্ট। তাদের একজন অন্যজনের পরিচিত না হলেও কষ্ট প্রায় একই রকম। রোববার তাদের একজনের বাবা ও অন্যজনের মা মারা যান। সকালে ছিল তাদের কৃষি শিক্ষা বিষয়ক পরীক্ষা। সেই কষ্ট নিয়ে পরীক্ষা দিয়েছে তারা।

তাদের একজন শেখ সোহেল রানা। সে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার জুংগুরদি গ্রামের মজিবর শেখের ছেলে ও নগরকান্দা সরকারি মহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমির শিক্ষার্থী।অন্যজন জুমা আক্তার। সে উপজেলার পাটলী ইউনিয়নের চক-কাচিমপুর গ্রামের আলাউদ্দিনের মেয়ে এবং জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে।

রোববার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মজিবর শেখ (৪০) মারা যান। এ খবর শুনে সকালে রানার কয়েকজন সহপাঠী তাদের বাড়িতে যায়। তারা সান্ত্বনা দিয়ে রানাকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আক্রামুন্নেসা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে রানা পরীক্ষা দেয়।

কেন্দ্র সচিব মাহবুব আলী মিঞা বলেন, বাবা মারা যাওয়ায় সে অনেকটা ভেঙে পড়েছিল। পরীক্ষা চলাকালে সার্বক্ষণিক তার খোঁজখবর নিয়েছেন তিনি।রানার আত্মীয় মিজানুর রহমান বলেন, রানার বাবা একজন সিএনজি অটোরিকশচালক ছিলেন। হঠাৎ হৃদরোগে ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। দুই ভাইয়ের মধ্যে রানা ছোট। বড় ভাই হৃদয় শেখ বেকার। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম বাবার মৃত্যুতে দিশেহারা তাঁর পরিবার।

রোববার ভোরে জুমা আক্তারের মা পারভিন বেগম (৫০) মারা যান। মায়ের মৃত্যুতে জুমা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। সকাল থেকেই কাঁদছিল সে। তাকে সান্ত্বনা দিয়ে সহপাঠী ও স্বজনরা পরীক্ষা দিতে উৎসাহিত করেন। সদরের জগন্নাথপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে কৃষি শিক্ষা বিষয়ে পরীক্ষা দেয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, ‘মায়ের লাশ ঘরে রেখে মেয়েটি সকালে হাউমাউ করে কেঁদে পরীক্ষার কেন্দ্রে যাচ্ছিল। পথে এ দৃশ্য দেখে সান্ত্বনা দিয়ে মন শক্ত করে পরীক্ষা দিতে বলেছি।’কেন্দ্রের দায়িত্বরত শিক্ষক গোবিন্দ রায় বলেন, ‘তাঁর মায়ের মৃত্যুর সংবাদ জানতে পেরে তাকে মানসিক সাহস জোগাতে চেষ্টা করেছি।’জগন্নাথপুরের ইউএনও সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রে গিয়ে শোকাহত ওই শিক্ষার্থীকে সাহস জোগানোর চেষ্টা করেছি।’

Leave a Comment