পূজা বর্জন করে মণ্ডপে কালো পতাকা উড়িয়েছেন স্থানীয় হিন্দু ধর্মালম্বীরা

সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হচ্ছে বাঙালি হিন্দুদের বৃহত্তম ধর্মীয় পার্বণ শারদীয় দুর্গাপূজা। আজ শনিবার ছিলো ষষ্ঠী। তবে এই আয়োজন থেকে নিজেদের দূরে রেখেছেন দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার স্থানীয় কিছু জনগণ।সাম্প্রতিক একটি ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূজা বর্জন করে মণ্ডপে কালো পতাকা উড়িয়েছেন স্থানীয় হিন্দু ধর্মালম্বীরা ।

আজ সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হত্যা ও ধর্ষণের বিচারের দাবিতে উপজেলার ২ নং ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের টংগুয়া কুমারপাড়া পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা বর্জন করে কালো পতাকা উত্তোলন করে প্রতিবাদ জানান স্থানীয় হিন্দুরা।

ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই টংগুয়া কুমারপাড়ায় বাবার বাড়ি থেকে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার পথে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যা এবং তাঁর ১০ বছরের মেয়েকে নির্যাতন করা হয়।

এরপর নিহত ব্যক্তির স্বামী বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। সেটি তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এত দিনেও এই ঘটনার রহস্য উন্মোচিত না হওয়ায় প্রতিবাদে পূজা বর্জন করে মণ্ডপে কালো পতাকা উড়িয়েছেন স্থানীয় হিন্দুরা।

এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে এর আগেও মানববন্ধন, প্রতিবাদ সভা ও স্মারকলিপি দিয়েছে নিহত ব্যক্তির পরিবার, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠন।নিহত ব্যক্তির চাচা বলেন, ‘এত দিনেও হত্যা ও ধর্ষণের বিচার না হওয়ায় আমরা হতাশ। স্বাধীন এই দেশেও যদি সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার হয়, তাহলে আমরা যাব কোথায়? যত দিন এই ঘটনায় ন্যায়বিচার পাব না, তত দিন এই মণ্ডপে কোনো ধর্মীয় উৎসব করব না।’

মণ্ডপে টাঙানো হয়েছে কালো পতাকা এবং ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক সহিংসতা-বিরোধী স্লোগান লেখা ব্যানার।এই প্রতিবাদ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন পরিষদের সভাপতি ধীমান দাস বলেন, ‘তাঁরা তাঁদের মেয়ে হত্যার প্রতিবাদ করবেন এটা স্বাভাবিক। তাঁরা বিভিন্ন পর্যায়ে এ বিষয়ে অবহিত করার পরও কোনো সুরাহা না পাওয়ায় এমন প্রতিবাদ করেছেন ওই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষেরা—এমনটাই জেনেছি।’

Leave a Comment