পরিবারকে আর কখনও টাকা পাঠানো হবে না আলামিনের

আলামিন (২৫), পরিবারের ছোট সন্তান হলেও তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তিন মাস আগে চাকরি হারিয়ে নিজের মোটরসাইকেলটিকে পুঁজি করে আয়ের পথ বেছে নিয়েছিলেন। বাইক চালিয়ে বাড়িতে টাকা পাঠাতেন। কিন্তু সেই মোটরসাইকেলই যেনো তার জীবনের কাল হয়ে দাঁড়ালো। গত ২৪ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁও মোড়ে দ্রুতগতির বাসের চাপায় নিহত হন আলামিন।

এ সময় মোটরসাইকেলের থাকা আরোহী সালেহুর রহমান গুরুতর আহত হন। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে আছে তিনি। এ ঘটনায় আলামিনের মামা গিয়াসউদ্দিন বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলার নেই কোনও অগ্রগতি। শুধু জব্দ করা হয়েছে আলিফ পরিবহনের সেই বাসটিকে। গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি সেই বাসের চালক বা হেলপারকে। এমনকি এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন সেই বাসের মালিকও। বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানিয়েছেন আলামিনের রুমমেট ও বন্ধু আবির আহমেদ।

আবির আহমেদ বলেন, ‘ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠানে দু’ বছরের বেশি সময় চাকরি করেছে আলামিন। ওষুধ সম্পর্কে তার ভালো ধারণা ছিল। সে কারণে রাজধানীতেই একটি ওষুধের দোকান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। তার উদ্দেশ্য ছিল পরিবারকে ভালো রাখা, আরও বেশি কন্ট্রিবিউট করা। এ জন্য টাকাও জমিয়ে আসছিলেন।’

আবিদ বলেন, ‘মাসে ২৫ হাজার টাকার কিস্তি মিটিয়েও প্রতিমাসে পরিবারকে গ্রামে টাকা পাঠাতে হতো আলামিনকে। তার মৃত্যুতে পরিবারটি আরও বেশি আর্থিক সমস্যায় পড়ে গেছে। কারণ, পরিবারের একমাত্র উপার্জনের ব্যক্তি ছিল ছোট ছেলে আলামিন।’জানা গেছে, আলামিনের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে। বাবা-মা, ভাইবোন গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। আর আলামিন রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বন্ধুদের সঙ্গে মেসে থাকতেন।

এই দুর্ঘটনার জন্য বাসচালকসহ সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে গত শনিবার রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মানববন্ধন করা হয়। সেখানে অভিযুক্তদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতারের দাবি জানানো হয়। তা না-হলে দাবি আদায়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।

মামলার বাদী নিহত আলামিনের মামা গিয়াস উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুই ভাই এবং এক বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশেহারা।’ তিনি বলেন, ‘আমার ভাগিনাকে তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তবে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ দুর্ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কাউকে গ্রেফতার না করায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাফরুল থানার এস আই শরীফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অভিযুক্ত আলিফ পরিবহনের বাসটি আমরা জব্দ করেছি। বাসের মালিককে শনাক্তের চেষ্টা হচ্ছে। এছাড়া বাসের চালক এবং হেলপারকে ধরতেও সম্ভাব্য সব জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে।