টানা তিন বার ক্ষমতায় থাকায় মানুষের জন্য কাজ করতে পেরেছি : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান কখনো ভুলবে না উল্লেখ করে তাঁর সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শে দেশকে গড়ে তুলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘একটানা তিন বার ক্ষমতায় থাকতে পেরেছি বলেই মানুষের জন্য কিছু কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। পিতা-মাতা-ভাইসহ স্বজন হারানোর ব্যথা বুকে নিয়ে, বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠায় আমার সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।’

আজ সোমবার সশস্ত্র বাহিনী দিবস-২০২২ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘যেসব মুক্তিযোদ্ধা একেবারে অবহেলিত পড়েছিল সরকার তাঁদের খুঁজে বের করে সব ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।

তাঁদের ভাতার ব্যবস্থা, মারা গেলে রাষ্ট্রীয় সম্মানের ব্যবস্থা, এমনকি তাঁদের দাফনের ব্যবস্থাও আমরা করছি।’শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা আমার বাবার ডাকে অস্ত্র তুলে নিয়ে এদেশ স্বাধীন করেছেন—তাঁদের সম্মান করা, মর্যাদা দেওয়াই আমাদের কাজ। দল-মত পৃথক থাকতে পারে কিন্তু তাঁদের অবদান আমি কখনো ছোট করে দেখিনি, অবহেলা করিনি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তরুণ প্রজন্ম যদি মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি দেখে বিজয়ের ইতিহাস জানতে পারে, তাহলে তাঁরা অনুপ্রাণিত হবে। জানবে কীভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হয়। কেউ কখনও মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করবে না। ভবিষ্যতে কেউ মুক্তিযোদ্ধা এবং তাঁদের পরিবারকে অবহেলার চোখে দেখবে না।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘২০২১ থেকে ২০৪১ সালের বাংলাদেশ কেমন হবে তার পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনাও আমরা প্রণয়ন করেছি। তারই ভিত্তিতে আমাদের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার কাজ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। এই বদ্বীপ অঞ্চলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। সেজন্য তাঁর সরকার প্রণীত শতবর্ষ মেয়াদি ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হবে।’

সরকারপ্রধান বলেন, ‘যেসব জিনিস আমদানি করতে হয় যেমন- ভোজ্য তেল, জ্বালানি তেল, গম ভুট্টা সেগুলোর দাম যেমন বেড়েছে তেমনি পরিবহণ ব্যয়ও অনেকাংশে বেড়ে গেছে। তারপরও সরকার থেমে নেই। সরকার এগুলো অতিরিক্ত মূল্যে কিনে দেশের জনগণকে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং উন্নয়ন অব্যাহত রাখার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে, উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে আমরা যেন এই অর্থনৈতিক মন্দাটা কাটিয়ে উঠতে পারি।’

Leave a Comment