‘কারওয়ান বাজারে হয় মাদক কারবারি থাকবে, নয়তো পুলিশ’

পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মাদক কারবারিদের হামলার শিকার হলেন বেসরকারি চ্যানেল এসএ টিভির স্টাফ রিপোর্টার তাইফুর রহমান তুহিন ও তার সঙ্গে থাকা ক্যামেরা পার্সন টিএইচ মুসলিম।

মাদক কারবারিরা এসময় তাদের বহনকারী টিভি চ্যানেলের গাড়িটাও ভাঙচুর করে।মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের রেল ক্রসিংয়ে এই হামলার শিকার হন তারা। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সাংবাদিক তাইফুর রহমান তুহিন বাংলানিউজকে বলেন, আজ কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে একটি সংবাদ সম্মেলন ছিলো।

ওই সংবাদ সম্মেলন কাভার করে অফিসের দিকে ফিরছিলাম। আমাদের বহনকারী গাড়িটি যখন কারওয়ান বাজার রেল ক্রসিংয়ে আসে, তখন দেখছিলাম মাদক কারবারিরা একটি বড় পলিথিনে করে গাঁজা ছোট ছোট পুরিয়া বানিয়ে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। আমরা গাড়িতে বসে ছিলাম আর দেখছিলাম।

এমন সময় মাদক কারবারিদের চোখে চোখ পড়ে গেলে ওরা অতর্কিতে আমাদের লক্ষ্য করে ইট ও পাথর মারতে শুরু করে। এতে আমাদের গাড়ির জানালা ভেঙে যায়। এসময় চালক দ্রুত গাড়িটি বাচাঁতে সামনে টান দেয়। এতে মাদক কারবারিরা দৌড়ে এসে পেছন থেকে ঢিল মারতে শুরু করে। মাদক কারবারিদের ছোড়া ঢিলে এসএ টিভির গাড়িটির সবকটি জানালা ভেঙে যায়। আর ওই ঢিল এসে আমার ও সঙ্গে থাকা ক্যামেরা পার্সনের পায়ে লাগে। এতে আমরা দুজনেই আহত হই।

তিনি আরও বলেন, প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে, অথচ পুলিশের কোনো তদারকি নেই কারওয়ান বাজারে। এদিকে তারা আবার হামলাও চালায়। এটা দুঃখজনক বিষয়। এ ঘটনার পর আমি র‍্যাব-৩ ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় ফোন করে বিষয়টি জানাই। এতে পুলিশ ঘণ্টা খানেক পর ঘটনাস্থলে আসে। এ বিষয় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বাংলানিউজকে বলেন, কারওয়ান বাজার রেল ক্রসিং ও স্টেশন এলাকাটি তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ও তেজগাঁও থানার সীমানা এলাকায়।

ওসি আরও বলেন, এই ঘটনার পর থেকে আমরা (ওসি) দুই থানার পুলিশ ফোর্স ও রাজারবাগ থেকে পুলিশের অতিরিক্ত ফোর্স এনে কারওয়ান বাজার রেল ক্রসিং ও আশপাশের এলাকায় সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছি। অভিযানে আমরা চার মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছি। এখন থেকে প্রতিদিন এই এলাকায় পুলিশের অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

এসময় ওসি মাজহারুল ইসলাম হুঙ্কার দিয়ে বলেন, এই কারওয়ান বাজারে হয় মাদক কারবারিরা থাকবে, নয়তো পুলিশ থাকবে। আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।এদিকে, র‍্যাব-৩ এর পক্ষ থেকেও কারওয়ান বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।