‘কর্মসূচিতে যোগ না দিলে হল থেকে বের করে দেব’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক রেদওয়ান আহমেদকে মারধর ও হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগকর্মীদের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থেকে রাজনৈতিক কর্মীদের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যোগ না দেওয়ায় তাঁকে মারধর করা হয়। অভিযুক্তরা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ‘বিজয়’ গ্রুপের অনুসারী। মারধরের শিকার রেদওয়ান আরবি বিভাগের ছাত্র।

সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এ এফ রহমান হলে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের পর ছাত্রলীগকর্মীরা রেদওয়ানকে ‘রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ না দিলে হল থেকে বের করে দেবো’ বলে হুমকি দেন। রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে জড়িতদের বিচার ও নিজের নিরাপত্তা চান রেদওয়ান।

সূত্র জানায়, সোমবার ছাত্রলীগের বিজয় গ্রুপের কর্মী শিক্ষার্থী নাহিদুল ইসলামের জন্মদিন ছিল। এ উপলক্ষে কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাত ১১টার দিকে কেক কাটতে অনেক নেতাকর্মী এ এফ রহমান হলের ফটকে জড়ো হন। এ সময় কয়েকজন হলে রেদওয়ানের কক্ষে গিয়ে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অংশ না নেওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। পরে ছাত্রলীগকর্মী লোকপ্রশাসন বিভাগের আরশিল আজিম, নাট্যকলা বিভাগের আবু বকর সিদ্দিক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শোয়েব আতিকসহ কয়েকজন হলে রেদওয়ানের কক্ষে গিয়ে তাঁকে মারধর করেন।

রেদওয়ান সমকালকে বলেন, তাঁর পরীক্ষা চলছিল। তাই তিনি পড়াশোনা করছিলেন। ছাত্রলীগের কর্মীরা এসে তাঁকে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে কেন যাননি, জিজ্ঞাসা করতে থাকেন। জবাবে তিনি জানান, তিনি সাংবাদিক। এ কারণে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাঁর থাকা সম্ভব নয়।রেদওয়ান একটি জাতীয় দৈনিক ও একটি অনলাইন পোর্টালের চবি প্রতিনিধি। শোয়েব আতিক বলেন, রেদওয়ান যে সাংবাদিক, তা তিনি জানতেন না। ভুল হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শহিদুল ইসলাম বলেন, তাঁরা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। রাতেই ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলেছেন। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চবিতে কর্মরত সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। গত ১৬ জুন তুচ্ছ ঘটনার জেরে আলাওল হলের ২০২ ও ২০৯ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগকর্মীরা সাংবাদিকদের হেনস্তা ও হল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেন। এ ঘটনায় ৯ ছাত্রলীগ কর্মীকে কর্তৃপক্ষ শোকজ করলেও এখনও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।