‘ইত্যাদি’ খ্যাত গায়ক আকবর মারা গেছেন

যশোরের রিকশা চালক থেকে রাতারাতি তারকায় পরিণত হন আকবর। ২০০৩ সালে বৈপ্লবিক এই ঘটনা ঘটান নির্মাতা-উপস্থাপক হানিফ সংকেত।
জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদির মাধ্যমে আকবরের গানের প্রতিভা সর্বপ্রথম তুলে ধরেন হানিফ সংকেত। ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে কিশোর কুমারের ‘একদিন পাখি উড়ে’ গানটি গেয়ে পরিচিতি পান আকবর। গানটি তাকে আলোচনায় নিয়ে আসে। এরপর ‘তোমার হাতপাখার বাতাসে’ গানটি দেশ-বিদেশের দর্শক-শ্রোতার কাছে তাকে পরিচিত করে তোলে।

গেল কয়েক বছর নানান শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন আকবর। দুঃসময়ে সবসময় তার পাশে থেকেছেন হানিফ সংকেত। রোববার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গায়ক আকবরের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে শোবিজ অঙ্গনে।

স্বাভাবিকভাবেই আকবরের প্রস্থান খবরে কেঁপে উঠেছে হানিফ সংকেতের মন। এদিন আকবরের নিথর দেহের পাশে সবার আগে তাকেই দেখার কথা, যেমনটা যায় অন্য অনেকের বেলায়। কিন্তু এবার আর সেটা হলো না। কারণ হানিফ সংকেত অবস্থান করছেন দূর রংপুরে ‘ইত্যাদি’র শুটিংয়ে।

আকবরের মৃত্যু চিকিৎসক নিশ্চিত হওয়ার পরই স্ত্রী কানিজ ফাতেমার প্রথম কলটা যায় হানিফ সংকেতের কাছে। বিষয়টি উল্লেখ করে হানিফ সংকেত ফেসবুকে লেখেন, আজ দুপুরে আকবরের স্ত্রী হঠাৎ ফোন করে অঝোরে কাঁদছিলো, বললো- ‘আমাকে ফাঁকি দিয়ে চলে গ্যাছে’। ফোনটা যখন পাই তখন আমি রংপুরে পরবর্তী ইত্যাদির জন্য একটি প্রতিবেদন ধারণ করছিলাম। ফোন পেয়েই বুঝেছিলাম আকবর আর নেই।

কারণ বেশ কিছুদিন থেকেই তার শারীরিক অবস্থা ভালো যাচ্ছিলো না। ক্রমশই অবনতি হচ্ছিলো। নিয়মিত খোঁজ রাখছিলাম। চিকিৎসকদের সঙ্গেও কথা হচ্ছিলো। লিভার, কিডনি, ডায়াবেটিস-সবকিছু মিলিয়ে শারীরিক অবস্থা ছিলো অনেকটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে। নেয়া হয় লাইফ সাপোর্টে। অবশেষে জীবনের কঠিন সত্য মৃত্যু (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

হানিফ সংকেতের ভাষায়, ‘তবে এটুকু সান্ত্বনা জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আকবরের চিকিৎসার কোন ত্রুটি হয়নি। প্রধানমন্ত্রী তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং আর্থিক সহায়তাও দিয়েছিলেন। এছাড়াও অনেকেই তাকে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

সবশেষ এই জনপ্রিয় উপস্থাপক বলেন, আকবরের সংগীত জীবনের উত্তরণের পথটা সহজ ছিলো না। ২০০৩ সালে যাত্রার পর থেকে অনেকটা একাই ওকে নিয়ে যুদ্ধ করেছি। আকবর খুব বেশি গান করেনি। তবে যে কটা করেছে তা সব প্রজন্মের শ্রোতাদের আবেগ-অনুভূতি ছুঁয়ে গ্যাছে-যা তাকে বাঁচিয়ে রাখবে অনেক দিন। আকবরের এই অকাল মৃত্যুতে আমি শোকাহত। আকবরের আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

এদিকে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আকবরের মরদেহ হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হবে মিরপুরের বাসায়। সেখানে স্থানীয় মসজিদে প্রথম নামাজে জানাজার পর তার মরদেহ রাতেই নিয়ে যাওয়া হবে যশোরের সুজলপুর গ্রামের বাড়ি। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে সোমবার (১৪ নভেম্বর) তার মায়ের কবরে আকবরকে সমাহিত করা হবে।