আল্লাহর নামে নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তিন হিন্দুকে বাঁচান মানিক

‘আল্লাহর নাম নিয়ে ঝাঁপ দিয়েছি নদীতে। বিশ্বাস এত টুকু ছিল- আল্লাহ আছেন, আর আমি সাঁতার জানি।’ এভাবেই প্রতিমা বিসর্জনের দিন বানের স্রোত থেকে দুই শিশুসহ তিন হিন্দুকে উদ্ধারের বর্ণনা দিচ্ছিলেন মোহাম্মদ মানিক নামে এক মুসলিম।

জলপাইগুড়ি জেলার ছোট্ট গ্রাম পশ্চিম তেশিমলায় মোহাম্মদ মানিকের বাড়ি। দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছরই মালবাজার এলাকায় মেলার আয়োজন হয়। প্রতিবছরের মতো এবছরও সেই মেলায় যান মোহাম্মদ মানিক। আর সেখান থেকে কিছুটা দূরেই অবস্থিত মাল নদী।

দ্য টেলিগ্রাফ ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার প্রতিমা বিসর্জনের সময় সেখানে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। নদীতে হঠাৎ হড়পা বান ডাকে। মালবাজারের মাল নদীতে হঠাৎই এই বানের ফলে স্রোতে ভেসে প্রাণ হারান কমপক্ষে ৮ জন।

বানের স্রোতে একের পর এক হিন্দু ভাইদের ভেসে যেতে দেখে স্থির থাকতে পারেননি মানিক। বিশেষ করে যখন দেখেন ছোট্ট শিশুও ভেসে যাচ্ছে তখন নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে আল্লাহর নাম নিয়ে ঝাঁপ দেন নদীতে। দুই শিশুসহ তিনজনের প্রাণ বাঁচাতে সক্ষম হন তিনি।

নদীতে ঝাঁপ দেয়ার পর তার পায়ে চোট লাগলেও, নিজের কষ্টের তোয়াক্কা না করে ভেসে যাওয়া মানুষের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন মানিক। আর সেই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হতেই প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছে নেটিজেনরা।

একদিকে যেখানে কিছু মানুষ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য ক্রমাগত হিন্দু–মুসলিমদের মধ্যে ঝামেলা লাগানোর চেষ্টা করছে; সেখানে মানিকের মত মানুষের জন্য আজও বাংলার মাটিতে শান্তি বিরাজ করছে। মানিকের এই সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রসঙ্গত, বুধবার রাতে প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়ে হড়পা বানে ভেসে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে আটজন। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত ৯টার দিকে জলপাইগুড়ির মালবাজারে।

Leave a Comment