https://www.highperformancecpmgate.com/mpd7i4drgw?key=8c9246005c069d2f701e13c70787cd45
https://www.highperformancecpmgate.com/mpd7i4drgw?key=8c9246005c069d2f701e13c70787cd45

অভিভাবক পরিচয়ে সম্পর্ক, সর্বনাশ করে পালাতো

স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাপড়ুয়া উঠতি বয়সী শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে কাজ করতো ভুয়া কবিরাজ ওয়াস কুরুনীর নিয়োগ করা মহিলা এজেন্টরা। তারা রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার বিভিন্ন বালিকা বিদ্যালয় ও মহিলা মাদ্রাসায় গিয়ে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের সঙ্গে মিশে যেতো। অভিভাবক পরিচয়ে স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের বিভিন্ন গোপন সমস্যা নিয়ে কথা বলতো। এসব সমস্যা কবিরাজি চিকিৎসা ও তাবিজ গ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ব্যাপারে তাদের প্রলুব্ধ করতো চক্রের নারী সদস্যরা।

বুধবার (২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর টিকাটুলি র‌্যাব-৩-এর সদর দফতরে অধিনায়ক আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।বুধবার সকালে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকা থেকে ওয়াস কুরুনীকে (২৪) গ্রেফতার করে র‌্যাব-৩। এ সময় তার কাছ থেকে পাগড়ি, সোনার হার, সোনার চেইন, কানের দুল, মাথার টিকলি, মাথার চুল, ৫টি সাপ, মন্ত্র লেখা কাগজ, তাবিজের খোসা, বনাজি কাঠের লাঠি, ২টি হরিনের চামড়া, বিভিন্ন ধরনের বনজ গাছগাছালিসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করা হয়।

অধিনায়ক আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‌‘ওই নারী এজেন্ট ছাড়াও তার আরও ২০ থেকে ২২ জন নির্বাচিত এজেন্টের খোঁজ পাওয়া গেছে। এসব এজেন্টের কাজ হলো এসব পোস্ট বারবার শেয়ারের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া। পরে আগ্রহীদের প্রতারণার শিকার বানিয়ে তাদের কাছ থেকে কৌশলে টাকা ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেওয়া। চক্রটির মূল হোতা ওয়াস কুরুনীর বিকাশ নম্বরে অর্থের লেনদেন করে থাকে। এ ছাড়া কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়।’

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, ভণ্ড কবিরাজ ওয়াস কুরুনীর তিনটি বেনামি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। কবিরাজ আলী আশরাফ, তান্ত্রিক কবিরাজ এবং হুমায়ুন আহমেদ নামে দিয়ে এসব পরিচালনা করতো।একাউন্টগুলোতে মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপনের সমস্যা নিয়ে পোস্ট দেয়।

সেখানে উঠতি বয়সের ছেলে-মেয়েদের গোপন রোগের চিকিৎসা, দাম্পত্য জীবনের সমস্যা, বিয়ে না হওয়া, প্রেমে ব্যর্থতা, চাকরি না পাওয়া, জমিজমার ঝামেলা, কাউকে বশ করার প্রবণতা, বাণ মারার শক্তিশালী মন্ত্র, মামলায় জয়ী হওয়ার মন্ত্র, বিবাহের প্রস্তাব আসার তাবিজ, প্রেম সফল করার তাবিজ, বিয়ে বন্ধ করার তাবিজ, মানুষকে পাগল করার তাবিজ ইত্যাদি শিরোনামে বিভিন্ন পোস্ট করে থাকে।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘এজেন্টরা ভুক্তভোগীদের প্রলুব্ধ করার পর ওয়াস কুরুনীর কাজ ছিল অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। কোনও ব্যক্তি প্রলুব্ধ হলেই ওয়াস কুরুনীর মোবাইল নম্বর দিত তার এজেন্টরা। তখন ভুক্তভোগীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলতো। এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন অ্যাপসে চ্যাটিং ও ভয়েস কল করে সম্পর্ক গড়ে তুলত এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিত।’

অভিভাবক পরিচয়ে সম্পর্ক, সর্বনাশ করে পালাতো
প্রতারণার ধাপপ্রাথমিকভাবে সে জিন চালানের মাধ্যমে ওষুধ প্রদান এবং গায়েবি চিকিৎসা শুরু করার জন্য দুর্লভ কিছু উপাদান কচি কবুতরের রক্ত, ইঁদুরের মাংস, বানরের লোম, বাদুরের পা, গভীর রাতে শ্মশানঘাট থেকে মাটির কলসিতে পানি সংগ্রহ করাসহ দুষ্প্রাপ্য জিনিস সংগ্রহ করতে বলতো ভুক্তভোগীকে। এসব জিনিস তাদের পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভব নয় বলে জানালে। তখন সে এসব সংগ্রহের জন্য টাকা দাবি করতো। তখন ভুক্তভোগীরা বাধ্য হয়ে তাকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা প্রদান করতো। তার চিকিৎসায় কাজ না হওয়ার অভিযোগ দিলে জিনের মাধ্যমে দ্রুত সঠিক চিকিৎসা হবে, এ বলে জিনকে উপহার দেওয়ার কথা বলতো। এভাবে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সম্পদ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠাতে বলতো।

সে কবিরাজির বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠাতো। তার কাছ থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইলে এ রকম অসংখ্য ছবি ও ভিডিও পাওয়া যায়। কেউ তার প্রতি অবিশ্বাস বা সন্দেহ প্রকাশ করলে দুষ্ট জিন দ্বারা নিয়মিতভাবে তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলে হুমকি দিতো। এভাবে সে ভুক্তভোগীদের গায়েবি ভয় ভীতি দেখিয়ে ধাপে ধাপে তাদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা নিতো।

সে কখনও কোনও ভুক্তভোগীর সঙ্গে দেখা করতে চাইতো না। নারী ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অধিক অর্থ আদায়ের জন্য সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখাতো। তখন ভুক্তভোগীরা নিরুপায় হয়ে তার চাহিদামতো টাকা পাঠাতো।ওয়াস কুরুনীর তার পুরো চক্রটি মিলে গত তিন বছরে অর্ধশতাধিক লোকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ এবং স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানতে পেরেছে র‌্যাব। ওই স্বর্ণালংকার ও আত্মসাৎকৃত অর্থ দিয়ে ওয়াস কুরুনী লৌহজং এলাকায় জমি কিনে বাড়ি তৈরি করেছে।

ওয়াস কুরুনীর এ পথে শুরুওয়াস কুরুনী মাদ্রাসা থেকে হেফজখানা পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। সে ১৫ থেকে ১৬ বছর বয়স থেকে কবিরাজি পেশা শুরু করে। প্রথমে সে যাত্রীবাহী বাসে তাবিজ বিক্রি ও বশীকরণের বই বিক্রি করতো। এরপর সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি ও অ্যাপসের মাধ্যমে সহজ-সরল নারী-পুরুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে প্রতারণা করে অর্থ ও স্বর্ণালংকার আত্মসাৎ শুরু করে। সে চার বছর আগে মুন্সিগঞ্জ লৌহজং এলাকায় বিয়ে করে সেখানেই বসবাস করছে। তার প্রতারণার কাজে তার স্ত্রী তাকে সহায়তা করে থাকে।তার বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ লৌহজং থানায় একটি প্রতারণার মামলা হয়েছে বলে জানান এই র‌্যাব কর্মকর্তা।

Leave a Comment

https://www.highperformancecpmgate.com/mpd7i4drgw?key=8c9246005c069d2f701e13c70787cd45